Mukhtar Ansari: সেনা অফিসারের নাতি হয়ে কীভাবে হলেন গ্যাংস্টার? আনসারিকে বিষ দিয়ে হত্যার অভিযোগ
ভোটের আগে উত্তর প্রদেশে উত্তেজনা চড়ছে। গতকাল রাতে জেলের মধ্যেই হার্ট অ্যাটাকে মারা যান কুখ্যাত গ্যাংস্টার মুক্তার আনসারি। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়ছে। এদিকে এই ঘটনা সত্যতা মানতে নারাজ তাঁর নাতি। পরিবারের লোকেরা দাবি করেছেন তাঁকে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই আনসারির মৃত্যুর তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। বান্দা হাসপাতালে হবে ময়নাতদন্ত। ভিসেরা সংরক্ষণ করে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মোরাদাবাদে তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

৬৩ বছরের মুখতার আনসারিকে গতকাল রাতে অচৈতন্য অবস্থায় জেল থেকে রানি দুর্গাবতী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। জানানো হয় জেলের মধ্যেই শৌচাগারে পড়ে গিয়েছিলেন আনসারি। তারপরেই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ৯ জন চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। জেলের পক্ষ থেকে জানানো হয় হার্ট অ্যাটাকে মত্যু হয়েছে আনসারির।কিন্তু সেই তত্ব মানতে নারাজ তাঁর পরিবার। তাঁরা অভিযোগ করেছেন বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে আনসারি। কুখ্যাত গ্যাংস্টার হলেও আনসারির রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। উত্তর প্রদেশের বান্দা থেকে জিতে একাধিকবার বিধায়ক হয়েছিলেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ৬০টি অপরাধের মামলা রয়েছে। সেই সব মামলাতে গ্রেফতার হয়েই জেলে ছিলেন তিনি।
যদিও আনসারি কিন্তু সম্পন্ন পরিবারের সন্তান। তাঁর দাদু অর্থাৎ ঠাকুরদাদা ছিলেন কংগ্রেসের বড় নেতা। এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর বড় অবদান ছিল। ১৯২৭ সালে তিনি কংগ্রেসের সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর পদে কাজ করেছেন। অন্যদিকে তাঁর আরেক দাদু অর্থাৎ মায়ের বাবা ছিলেন একজন ভারতীয় সেনা অফিসার। ১৯৪৮ সালে কাশ্মীরে নওসেরায় যুদ্ধের সময় শহিদ হয়েছিলেন তিনি। তারপরে ভারত সরকার তাঁকে পরম বীর চক্রে সম্মানিতও করেছিলেন।
কিন্তু মুক্তার কীভাবে অপরাধের দুনিয়ার বেতাজ বাদশা হয়ে উঠলেন তা নিয়ে এখনও রহস্য রয়েছে। মৌ মিধানসভা কেন্দ্র থেকে একাধিকবার নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। একাধিক রাজনৈতিক দলের টিকিটে ভোটে লড়েছেন তিনি। তাঁর বিধায়ক থাকাকালীন অবস্থা মৌস, বান্দা সহ উত্তর প্রদেশের একাধিক জায়গায় মাফিয়ারা দাপিয়ে বেড়াতেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই অপরাধের দুনিয়ায় হাতে খড়ি হয়েছিল মুক্তারের। গাজিপুরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছিল। তারপরে আর সেই অপরাধ থামেনি। উত্তোরোত্তর বে়ড়েছিল। উত্তর প্রদেশের প্রথম সারির গ্যাংস্টারে পরিণত হয়েছিলেন মুক্তার আনসারি।












Click it and Unblock the Notifications