করোনা রোগীর ক্ষুদ্রান্তেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, 'বিরলের মধ্যে বিরলতম' দৃষ্টান্তে ডাক্তারদের কপালে ভাঁজ
করোনা রোগীর ক্ষুদ্রান্তেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, 'রিরলতম' দৃষ্টান্তে ডাক্তারদের কপালে ভাঁজ
কেবলমাত্র চোখ, ফুসফুস কিংবা মুখমণ্ডল নয়, দুর্বল মানুষের পরিপাকযন্ত্রেও বাসা বাঁধতে শুরু করেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। 'বিরলের মধ্যে বিরলতম' ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লিতে। যেখানে করোনা আক্রান্ত দুই ব্যক্তির ক্ষুদ্রান্ত এবং পাকস্থলীতে মিউকোরমাইকোসিসের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছেন ডাক্তাররা। একই সঙ্গে এই ঘটনায় তাঁরা আশঙ্কিতও হয়েছেন। এভাবে অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকা ভয়ঙ্কর ছত্রাককে দমন করা যায় কোন পথে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে।

দিল্লির হাসপাতালে ঘটছে এই ঘটনা
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দিল্লির শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দুই রোগী। কোভিড ১৯ রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও তাঁরা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালের ডাক্তাররা। কোভিড যুদ্ধে জয়ী হওয়া ওই দুই ব্যক্তি তলপেটে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করছিলেন বলে জানানো হয়েছে। দুই রোগীর বায়োপসি এবং সিটি স্ক্যান করানো হলে তাঁদের পরিপাকযন্ত্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপস্থিতি চোখে পড়েছে ডাক্তারদের। ওই হাসপাতালেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলে জানানো হয়েছে।

স্টেরয়েডের মাধ্যমে চিকিৎসা
করোনা ভাইরাসকে হারানো ওই দুই রোগীর মধ্যে একজনের বয়স ৫৬। তিনি অতিমারীতে নিজের পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়েছেন। নিজেও দুর্বলতা অনুভব করায় ওই রোগীকে স্টেরয়েড দিয়েছিলেন ডাক্তাররা। ৬৮ বছরের অপর রোগীর শরীরেও অল্পমাত্রায় স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দিল্লির ওই হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে।

দুর্বল শরীরে আক্রমণ
ডাক্তারদের বক্তব্য, অপেক্ষাকৃত কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শরীরে বাসা বাঁধছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে দুর্বলতা বেড়ে যাওয়ায়, তাঁরা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। করোনা ভাইরাসের আবহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের আক্রমণ নিয়ে চিন্তিত ভারত সরকার। মিউকোরমাইকোসিসে এখনও পর্যন্ত দেশে ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণত চোখ, ফুসফুস এবং মুখমণ্ডলে আক্রমণ শানাচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। তাই পরিপাকযন্ত্রে মিউকোরমাইকোসিসের উপস্থিতি যে অশনি সংকেত, তাও মেনে নিচ্ছেন ডাক্তাররা।

ছোঁয়াচে নয়
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছোঁয়াচে নয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে এক রোগীর থেকে অন্য রোগীর শরীরে সেটি সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একমাত্র ভয়ঙ্কর ছত্রাকের ছোঁয়াতেই মিউকোরমাইকোসিসে আক্রান্ত হন বলে জানানো হয়েছে। এতে ফুসফুস এবং সাইনাসের ক্ষতি হতে পারে। মানবদেহের ত্বক থেকে চোখে প্রভাব বিস্তার করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস।












Click it and Unblock the Notifications