পচা খাবারে উদরাময়, অম্বল সাংসদদের, হইচই

সাংসদরা হলেন দেশের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষ। ট্রেন-বিমানে যাতায়াত, বিদ্যুৎ বিল, ফোনের খরচ ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই সুবিধা ভোগ করেন। কিছুদিন আগে পর্যন্তও সস্তায় ভালো মানের খাবার পেতেন তাঁরা। কিন্তু কিছুদিন হল বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
বুধবার এই ইস্যুতে সংসদে সরব হন সংযুক্ত জনতা দলের কে সি ত্যাগী। তিনি বলেন, "বাজে খাবার দেওয়া হচ্ছে। রুটিগুলো শক্ত চামড়া। ডালে গন্ধ বেরোয়। এ সব খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামগোপাল যাদব, জয়া বচ্চনের শরীর খারাপ করেছে এই খাবার খেয়ে।" তিনি রসিকতা করে বলেন, সাংসদরা যাতে সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পারে, তাই ইচ্ছে করে পচা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
কে সি ত্যাগীকে সমর্থন করে জয়া বচ্চন বলেন, "হ্যাঁ, খাবার ভালো নয়। আমার শরীর খারাপ করেছিল। পচা খাবার খেলে সেটাই হওয়ার কথা।" কংগ্রেসের রাজীব শুক্লা তাঁকে সমর্থন করে বলেছেন, "আমি ফুড কমিটির সদস্য ছিলাম। তখন ক্যান্টিনটি মূল সংসদ ভবনে ফিরিয়ে আনতে বলেছিলাম। কাজ হয়নি।"
কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য অভিযোগ করেন, খাবারের উপকরণ আসে গুজরাত থেকে। ওখান থেকে পচা খাবার পাঠানো হচ্ছে। এই অভিযোগ উড়িয়ে সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, "কিছু লোক ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও গুজরাতকে স্বপ্নে দেখে। আমরা কি করব?"
২০১২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত মূল সংসদ ভবনেই ছিল ক্যান্টিন। সাংসদ, কর্মী ও সাংবাদিকরা মিলিয়ে এখানে আট হাজার লোক খেত। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঠিক হয়, সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিং ও লাইব্রেরির ক্যান্টিন থেকে খাবার আসবে মূল সংসদ ভবনে। কিন্তু ওই দু'টি ক্যান্টিন মিলিয়ে বড় জোর এক হাজার লোকের খাবার তৈরি হতে পারে। বাকিদের খাবার ক্যান্টিন কর্মীরা কোথা থেকে কীভাবে জোগাড় করছেন, সেটা খতিয়ে দেখার কেউ নেই। ফলে বিপত্তি হচ্ছে।
এ দিন হইহট্টগোলের পর রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে কুরিয়েন বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্যান্টিন কর্মীদের ডেকে কথা বলবেন।












Click it and Unblock the Notifications