রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছাড়ার হিড়িকের কারণ কী? নেতৃত্বের অভাব নাকি অপারেশন কমল!
রাজ্যসভা নির্বাচনের আগেই গুজরাত বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কংগ্রেসের তিন বিধায়ক। আর এর জেরে বিধায়কদের বিজেপির 'অপারেশন কমল'-এর হাত থেকে বাঁচাতে রাজ্যের বাইরে পাঠায় কংগ্রেস। এদিকে রাজস্থানেও কংগ্রেস বিধায়ক কেনার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে বিজেপিকে। তবে এই সব ক্ষেত্রেই কী হাত রয়েছে অপারেশন কমলের? নাকি এর পিছনে রয়েছে কংগ্রেসে নেতৃত্বের অভাবও?

গুজরাতের সমীকরণ
গুজরাত বিধানসভায় কংগ্রেসের ৬৫টি আসন। ১৮২ আসনের গুজরাত বিধানসভায় ১০৩টি আসন গেরুয়া শিবিরের দখলে। পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে কংগ্রেস রাজ্যসভায় একটি মাত্র আসনই নিশ্চিত করতে পেরেছে। রাজস্থানে এখন কংগ্রেসের সরকার। তাই কংগ্রেস নিজেদের বিধায়কদের ধরে রাখতে সেখানে পাঠাচ্ছে। বিজেপি সেখানে বিধায়ক কেনাবেচা করতে পারবে না বলেই মনে করছে হাত শিবির। তবে সেই কেনাবেচা রুখতে কোনও নেতা পথ দেখাতে পারছেন না এই কংগ্রেস বিধায়কদের। যা ভোগাচ্ছে শতাব্দী প্রাচীণ দলকে।

নিশ্চিত ভোটেও রাজস্থানে চিন্তায় কংগ্রেস
এদিকে রাজস্থানে নিশ্চিত ভোটেও চিন্তায় কংগ্রেস। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে রাজ্যে সরকার ফেলার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। অভিযোগের তির বিজেপি-র দিকে। রাজস্থানের রাজ্যসভার আসনগুলির মধ্যে তিনটিতে ১৯ জুন হবে ভোটগ্রহণ।

রাজস্থানে বিপাকে গেহলটের সরকার
রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে গুজরাতে যখন দল গোছাতে ব্যস্ত কংগ্রেস, তখনই রাজস্থানে বিপাকে তাদের সরকার। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের আগে টাকার খেলায় সরকার ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তাঁরা। দুর্নীতির অভিযোগে এবং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে রাজ্যের দুর্নীতি দমন বিউরোর প্রধানকে চিঠি দিয়েছেন রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক মহেশ যোশী।

কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব
রাজস্থানে কংগ্রেসের সরকার থাকলেও সেখানে অশোক গেহলটের নেতৃত্বে খুশি নয় শচিন পাইলটের অনুগামীরা। সেখানে অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে বিজেপির অপারেশন কমল এত কাজে দিচ্ছে। একই ভাবে মধ্যপ্রদেশেও কংগ্রেসে ভাঙ্গন ধরিয়ে সরকার তৈরি করেছিল বিজেপি।

সূচনা ক্ষেত্র : মধ্যপ্রদেশ
চলতি বছর ১১ মার্চ কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্ক শেষ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। দেশজুড়ে করোনা লকডাউন জারি করার আগেই আমূল পরিবর্তন হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে। কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সৈনিক ও সাংসদ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া হাত শিবির ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন পদ্ম শিবিরে। তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তাঁর অনুগামী হিসাবে পরিচিত ২২ জন বিধায়ক। এর জেরে মধ্যপ্রদেশে কমলনাথকে সরিয়ে মসনদে বসেছিলেন শিবরাজ সিং চৌহান।












Click it and Unblock the Notifications