রাজ্যপালের প্রশংসা কুড়োলেন মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার অধ্যক্ষ! কোন দিকে এগোচ্ছে গতিপ্রকৃতি?
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার ছুটি করে দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ। এর জেরে ১০ দিন পিছিয়ে যায় আস্থা ভোট। তবে এরপরও বুধবার এক চিঠি লিখে অধ্যক্ষকে সাহসী ও নিরপেক্ষ বলে আখ্যা দিলেন রাজ্যপাল লালাজি ট্যান্ডন। যার জেরে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

২২ বিধায়ক ইস্তফাতে বিপাকে কংগ্রেস
প্রসঙ্গত, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কংগ্রস ছেড়ে দিতেই তাঁর অনুগামী ২২ বিধায়ক ইস্তফা দেয় কংগ্রেস থেকে। এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিল কংগ্রেস। এরপরই মধ্যপ্রদেশে কমলনাথ সরকারের উপর কালো ছায়া ঘুরতে থাকে। যদিও করোনা ভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে আপাতত সরকারের শক্তি প্রদর্শন করতে হচ্ছে না কংগ্রেসকে।

করোনা ছুটিতে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা
করোনা ভাইরাসের করাণ দেখিয়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুলতুবি করা হয় মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। আর এর জেরে পিছিয়ে যায় আস্থা ভোটও। তবে আস্থা ভোট করাতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। যার শুনানি হওয়ার কথা আজই। এরপরই মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

রাজ্যপাল-কংগ্রেস তরজা
মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপাল লালাজি ট্যান্ডনের নির্দেশে সোমবারই মধ্যপ্রদেশের বিধানসভায় শক্তি পরীক্ষা ছিল মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের। তবে তাঁর হাতে তো শুধু মাত্র কংগ্রেসের ৯৪ জন বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে তিনি সরকার বাঁচাবেন। আস্থা ভোট নিয়ে দোনামনা দেখা যায় কংগ্রেসের অন্দরেও। রাজ্যপালের নির্দেশকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস বিধায়করা এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলেন কমলনাথকেই। এরপর একই সুরে কমলনাথ রাজ্যপালকে চিঠি লিখে জানিয়ে দেন, বিধানসভার অধ্যক্ষের উপর রাজ্যপালের কোনও কর্তৃত্ব নেই।

অধ্যক্ষের মনভাব মন জয় করেছে রাজ্যপালের
তবে এই ঘটনার আগে ইস্তফা দেওয়া ২২ জন বিধায়কের মধ্যে ৬ জন বিধায়কের ইস্তফা গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ। যার জেরে সুবিধা হয়ে যায় বিজেপির। এরপর বাকি বিধায়কদের স্বশরীরে এসে দেখা করতে বলেন অধ্যক্ষ। তিনি জানান, সন্তুষ্ট হলে তবেই তাঁদের ইস্তফা গ্রহণ করবেন তিনি। আর অধ্যক্ষের এই মনভাবই মন জয় করেছে রাজ্যপালের।

সুপ্রিম নির্দেশে পরিষ্কার হবে মধ্যপ্রদেশের ভবিষ্যৎ
এর আগে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বিজেপির ১০৬ জন বিধায়ক দাবি করেন যে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আস্থা ভোট করে নতুন সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হোক। এরপরই রাজ্যের রাজ্যপাল বিধানসভার অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেন আস্থা ভোটের জন্য। শেষ পর্যন্ত আস্থা ভোট হবে কি না তা জানা যাবে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পরই।












Click it and Unblock the Notifications