মা আর ছেলেই দেশের সর্বনাশ করেছে, এদের বিদেয় দিন, তোপ মোদীর

গতকালই রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, গুজরাত মডেল হল টফি মডেল। কারণ এখানে কৃষকদের জমি কেড়ে নিয়ে জলের দরে তুলে দেওয়া হয় বড় শিল্পপতিদের হাতে। দেওয়া হয় না ন্যূনতম ক্ষতিপূরণও। এক টাকা খরচ করলে টফি পাওয়া যায়। গুজরাতেও এত অল্প খরচে কৃষিজমি দখল করে নেওয়া যায়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন পাল্টা তোপ দাগেন নরেন্দ্র মোদী। সকালে হাজারিবাগের জনসভায় রাহুল গান্ধীর নাম না করেই তিনি বলেন, "আগে শুনছিলাম বেলুনের কথা। গুজরাত মডেলের সঙ্গে একজন বেলুনের তুলনা করছিলেন। এখন শুনলাম টফির কথা। দেশে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা ভোট হচ্ছে, আর একজন দশদিন ধরে বেলুন-বেলুন বলছেন। পরে আবার বললেন টফি। জানি, একটা কিছু নিয়ে বাচ্চারা বেশিদিন থাকতে পারে না। তাই বেলুন ছেড়ে টফি ধরেছেন।" শ্রোতাদের উদ্দেশে তাঁর আরও প্রশ্ন, "এবার আপনারাই আমাকে বলুন কী করা উচিত! আমার তো আর বেলুন নিয়ে খেলাধুলো করার বয়স নেই।"
এখানেই ছাড়েননি তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে ভাগলপুরের জনসভায় তিনি বলেন, "মা-ছেলেই দেশের সর্বনাশ করেছে। গরিব মানুষের কথা ভাবে না। যেমন দেখুন, খাদ্যশস্য পচছিল ফুড কর্পোরেশনের গুদামে। ইঁদুরে খাচ্ছিল, পোকা ধরে যাচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে বলল, আপনারা এগুলো বিনামূল্যে অভুক্ত মানুষদের দিয়ে দিন। সোনিয়া গান্ধীর সরকার কী করল? টালবাহানা করে একটা দানাও কাউকে দিল না। গরিব মানুষ অভুক্তই রইল। পরে সুযোগ বুঝে ৮০ পয়সা কিলো দরে সেই খাদ্যশস্য মদ কোম্পানিগুলোকে বেচে দিল। এখন তাই এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে। মাকে দিয়ে চলবে না। কোনও বাচ্চাও দেশ চালাতে পারবে না। শক্তসমর্থ সরকারকে আনতে হবে।"
মনমোহন সিংকেও একহাত নেন নরেন্দ্র মোদী। খোঁচা দিয়ে বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই চিন্তিতভাবে গোমড়া মুখে বসে থাকেন। কখনও ওঁকে হাসতে দেখিনি। সব সময় ম্যাডামজির ভয় কাজ করে তো তাই। সঞ্জয় বারু বই লিখে সব ফাঁস করে দিয়েছেন। আমরা অনেক কিছু জেনেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীর পরিবার বলছে, পদের সুযোগ নিয়ে সঞ্জয় বারু নাকি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বইয়ে ভুল লেখা হয়েছে, এমনটা কিন্তু বলেনি। অর্থাৎ গত দশ বছরে সত্যিই অনেক গণ্ডগোল হয়েছে।"
প্রত্যাশ্যা মতোই নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা নির্বাচনী জনসভাগুলিতে ভালোই ভিড় হয়েছিল। যতবার তিনি সোনিয়া-রাহুলকে বিঁধেছেন, ততবার হাততালিতে ফেটে পড়েছে জনতা।












Click it and Unblock the Notifications