অধিকাংশ শ্রমিক ট্রেন গুজরাত–মহারাষ্ট্র থেকে ছেড়ে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে যাচ্ছে
অধিকাংশ শ্রমিক ট্রেন গুজরাত–মহারাষ্ট্র থেকে ছেড়ে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে যাচ্ছে
কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা হিসাবে বিশেষ শ্রমিক ট্রেনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গুজরাত ও মহারাষ্ট্র থেকে ৪০ শতাংশ শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন ২০ লক্ষ পরিযায়ীকে বাড়িতে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫০ লক্ষ আটকে পড়া শ্রমিক এই ট্রেনের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছেছেন।

গুজরাত ও মহারাষ্ট্র থেকেই বেশি শ্রমিক ট্রেন ছেড়েছে
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩,৩৭৬টি শ্রমিক ট্রেন ভারতের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ছাড়ে। তবে গুজরাত থেকে সবচেয়ে বেশি ট্রেন ছেড়েছে, ৯৭৯টি বিশেষ ট্রেন ছাড়ে এ রাজ্য থেকে। এরপরই রয়েছে মহারাষ্ট্র, এখান থেকে ৬৯৫টি শ্রমিক ট্রেন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রওনা দেয়। ৩,৭৩৬টি ট্রেনে ৭৫ শতাংশ যাত্রী বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ছিল। এই ট্রেনগুলি থেকে উত্তরপ্রদেশের যাত্রী সংখ্যা ১,৫৩০ জন এবং বিহারের যাত্রীসংখ্যা ছিল ১,২৯৬ জন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে ২০,৪৭,০০০ জন ও বিহারে ১৭,৩৪,০০০ জন পরিযায়ী শ্রমিক পৌঁছেছে।
তবে শ্রমিক স্পেশ্যালগুলির চাহিদা শেষ পর্যন্ত কমে যেতে পারে এমন লক্ষণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বৃহস্পতিবার মাত্র ৩৫টি শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার জন্য ছাড়ে। সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, গুজরাতের পরিকল্পনা রয়েছে ৮০টি ট্রেন ওড়িশাতে এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে আরও ১০টি ট্রেন পাঠানোর।

তেলেঙ্গানাতে ৫৯ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ৩৬টি ট্রেন চলে
বেশ কিছুদিন ধরে মহারাষ্ট্রে শ্রমিক ট্রেনগুলি বাতিল হচ্ছে কারণ সরকার এই ট্রেনগুলিকে ব্যবহার করতে অসফল হচ্ছে। সূত্রের খবর, তেলেঙ্গানাতে ২৩ ও ২৪ মে মাত্র ৫৯ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ৩৬টি ট্রেন চলে, যার মধ্যে ১৭টি ট্রেনে ৫০ শতাংশের কম যাত্রী ছিল। বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রী পীযুশ গোয়েল টুইটে বলেন, ‘খুব আনন্দের সঙ্গে এটা জানাচ্ছি যে এই করোনা সঙ্কটের মধ্যেও শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন ৫০ লক্ষেরও বেশি শ্রমিককে তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে নিরাপদে ও সঠিক সময়ে পৌঁছে দিতে সফল হয়েছে।'

বেশ কিছু রাজ্যে অনেক কম ট্রেন ঢুকেছে
রেলের তথ্য মারফত জানা গিয়েছে, গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের পর পাঞ্জাব থেকে ৩৯৭টি ট্রেন, উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে ২৬৩টি ট্রেন ছাড়ে। এই রাজ্যগুলির বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৭৫টি ট্রেন এসেছে। এছাড়াও এ রাজ্য থেকে রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর ও বিহারের উদ্দেশ্যে মাত্র তিনটি শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন ছাড়ে। ছত্তিশগড়ে এখনও পর্যন্ত ৫৩টি ট্রেন প্রবেশ করেছে, রাজস্থানে ৪৫টি ট্রেন প্রবেশ করলেও এ রাজ্য থেকে ছেড়েছে ১১৯টি ট্রেন। যার মধ্যে ১৮টি কোটা থেকে, বেশিরভাগই পড়ুয়াদের নিয়ে এই ট্রেন রওনা দিয়েছে। ওড়িশায় ঢুকেছে ১৫৯টি ট্রেন কিন্তু মাত্র তিনটি ট্রেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ছত্তিশগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। কেরলে মাত্র ৯টি ট্রেন ঢুকেছে, যার মধ্যে ৩টি মহারাষ্ট্র থেকে, ২টি দিল্লি থেকে ও পাঞ্জাব, রাজস্থান, কর্নাটক ও গুজরাত থেকে একটি করে। এ রাজ্য থেকে ৫০টি ট্রেন ছাড়ে যার অধিকাংশই বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও ওড়িশার উদ্দেশ্যে গিয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, এমনকি মণিপুর, ত্রিপুরা ও জম্মুতেও গিয়েছে ট্রেন।

১৬০০ জন করে যাত্রী প্রত্যেক ট্রেনে
১ মে থেকে যখন এই ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়, তখন সামাজিক দুরত্বকে মাথায় রেখে প্রত্যেক ট্রেনে ১২০০ জন করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু মাসের মধ্যভাগে এসে প্রত্যেকটি ট্রেনে কমপক্ষে ১৬০০ করে যাত্রী চাপছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান অনুসারে আনুমানিক ৫০ লক্ষ মানুষ ট্রেনগুলিতে সফর করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications