নেতাজি অন্তর্ধান রহস্যে চাঞ্চল্যকর মোড়, আদালতে জমা পড়ল নয়া রিপোর্ট
উত্তরপ্রদেশের যে গুমনামী বাবা-কে নিয়ে বহুদিন ধরেই নেতাজি বলে জল্পনা ছড়িয়েছে সেই বক্তব্যের সারবত্তা রয়েছে, এমনটাই বলছেন সরকার দ্বারা নিয়োগ করা প্রাক্তন বিচারপতি।
নেতাজি অন্তর্ধান রহস্যে যেন কিছুতেই পর্দা টানা যাচ্ছে না। বেশ কিছুদিন আগে কেন্দ্রের তরফে রিপোর্টে জানা গিয়েছিল ১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনাতেই মারা গিয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তবে তা নিয়ে ফের বিভ্রান্তির জট পাকল। উত্তরপ্রদেশের যে গুমনামী বাবা-কে নিয়ে বহুদিন ধরেই নেতাজি বলে জল্পনা ছড়িয়েছে সেই বক্তব্যের সারবত্তা রয়েছে, এমনটাই বলছেন সরকার দ্বারা নিয়োগ করা প্রাক্তন বিচারপতি।

বিচারপতি বিষ্ণু সহায় আদালতে গুমনামী বাবা সম্পর্কে রিপোর্ট জমা করেছেন। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, ফৈজাবাদের এই বাবাকেই সকলে নেতাজি বলে বিশ্বাস করতেন। উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল রাম নায়েককে দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, যতজন সাক্ষীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, প্রায় সকলেই একবাক্যে বলেছেন যে গুমনামী বাবাই ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
গতবছরের জুন মাসে তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি সরকার বিচারপতি সহায় কমিশন তৈরি করে গুমনামী বাবা সম্পর্কে রিপোর্ট জমা দিতে বলে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এমনটা করা হয়। তার আগে এলাহাবাদ হাইকোর্টে এক পিটিশন জমা পড়েছিল যেখানে গুমনামী বাবাকেই নেতাজি বলে দাবি করা হয়েছিল।
সেই মামলায় বিচারপতি সহায়ের রিপোর্ট নতুন করে নেতাজি অন্তর্ধান রহস্যকে উসকে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। বিচারপতি সহায় বলেছেন, বেশিরভাগ সাক্ষীই বলেছেন গুমনামী বাবাই আসলে নেতাজি ছিলেন অথবা হয়ে থাকতে পারেন।
এই রিপোর্ট পেশের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন বিচারপতি সহায়। তা হল গুমনামী বাবা মারা যান ১৯৮৫ সালে। এদিকে সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড হয়েছে ২০১৬-১৭ সালে। এই তিন দশকের ব্যবধানে তদন্ত প্রক্রিয়া অবশ্যই ধাক্কা খেয়েছে। অনেকের স্মৃতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোপ পেয়েছে। অনেকে সঠিকভাবে পুরো বিষয়টা মনে করতে পারছেন না। এটা এতদিনের ব্যবধানে যে স্বাভাবিক তাও রিপোর্টে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গুমনামী বাবার পরিচয় খুঁজে বের করতে এই কমিশন তৈরি হয়েছিল। সেখানে বেশিরভাগ সদস্যই গুমনামী বাবাকেই নেতাজি বলে জানিয়েছেন। এখন দেখার আগামিদিনে এই নিয়ে কোন বিতর্ক শুরু হয়।












Click it and Unblock the Notifications