দ্বিতীয় ঢেউয়ের করাঘাত! তীব্র অর্থাভাবে ধুঁকছে সমাজের বড় অংশ, বেকারত্বের আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্ত
দ্বিতীয় ঢেউয়ের করাঘাত! তীব্র অর্থাভাবে ধুঁকছে সমাজের বড় অংশ, বেকারত্বের আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্ত
গত এপ্রিল-মে মাস জুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জোয়ারে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা ভারত। লকডাউন ও টিকাকরণের জোড়া ফলায় মারণব্যাধির প্রভাব কিছুটা স্তিমিত হলেও প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমাজের একাংশ। ভারতের অধিকাংশ রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় আধপেটা খেয়ে দিন গুজরান করছেন গ্রামবাসীরা। পাশাপাশি বেকারত্বের জেরে অর্থাভাবে ধুঁকছে দেশের যুবসমাজ। শুধু মে মাসে করোনার চরম তান্ডবের মাঝে কাজ হারিয়েছে দেশের প্রায় ১.৫ কোটি নাগরিক। লকডাউনের জেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে নাভিশ্বাস উঠেছে দেশের মধ্যবিত্তের।

বিশ্বের অভুক্ত মানুষের এক-তৃতীয়াংশ ভারতে
একদিকে যেমন 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া'-র স্বপ্ন দেখছে দেশ; অপরদিকে পরিসংখ্যান মোতাবেক, বিশ্বের অপুষ্ট নাগরিকদের এক-তৃতীয়াংশই ভারতবাসী। খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দাঁড়িয়েও সঠিক খাবার পাচ্ছেন না পরিযায়ী শ্রমিকরা। করোনার ধাক্কায় গত বছর ভারতীয় অর্থনীতির পারাপতন ঘটে প্রায় ৭.৩% পর্যন্ত। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষানুযায়ী, প্রায় ২৩কোটি ভারতীয়র প্রত্যহ রোজগার নেমেছে ৩৭৫টাকার নীচে। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মবিভাগের পরিচালক অমিত বাসলের মতে, "এ বছর ২০২০-এর ধারদেনা শোধ করছেন অধিকাংশ মানুষ। স্বভাবতই টান পড়ছে মধ্যবিত্তের পকেটে।"

সময়ের আগেই শেষ রেশন
ভারতের খাদ্যবন্টন ব্যবস্থার দুর্দশার চিত্র উঠে এসেছে গত বছর অর্থনীতিবিদ ঋত্বিকা খেরা, মেঘনা মুঙ্গিকার ও জিন দ্রেজের করা সমীক্ষায়। পুরোনো আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী রেশন ব্যবস্থা চালানোর ফলে সরকারি নিয়মে খাদ্য পান না দেশের ১০কোটির অধিক নাগরিক। গত বছরের জুন মাসে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মাসে ছয় কিলো অতিরিক্ত রেশনের বন্দোবস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ব্যবস্থা বর্ধিত হয়েছে এ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত। রেশনে ভর্তুকি দিলেও খাদ্যের এহেন সঙ্কটে কী ভাবছে কেন্দ্র, সে বিষয়ে সদুত্তর মেলেনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে।

৪ মাসে রেশন শেষ রাজধানীতে
রেশন সরবরাহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের পাশাপাশি টালমাটাল পরিস্থিতি রাজ্যগুলিরও। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এ বছরের এপ্রিলে দু'মাসে ৭২ লক্ষ রেশনকার্ডে বিনামূল্যে সরবরাহের কথা ঘোষণা করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পাশাপাশি ১,৫৬,০০০ রিক্সা-ট্যাক্সিচালককে মাসিক ৫,০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। যদিও ৭ই জুলাই খাদ্যের অভাবে ভেঙে পড়ে দিল্লির রেশন ব্যবস্থা। এরই মাঝে মুম্বইয়ের স্বেচ্ছাসেবী প্রচেষ্টা 'খানা চাহিয়ে' মহারাষ্ট্র ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে অন্যত্র রাজ্যে।

অন্ন জোগাচ্ছে কমিউনিটি কিচেন
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রী থেকে গৃহবধূ, নাগরিকদের সুষ্ঠু প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা একের পর এক কমিউনিটি কিচেন খাদ্য জোগাচ্ছে গরীবদের মুখে। যদিও অনিয়মিত বর্ষার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে পুনরায় বাড়তে পারে খাদ্যসঙ্কট! স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় দানাশস্যকে আনার দাবি তুলেছেন বহু অর্থনীতিবিদ। অন্যদিকে পকেটে পয়সা থাকলেও ভোজ্য তেল ও সবজিশস্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে হাঁফ ধরছে নাগরিকদের। এহেন পরিস্থিতিতে তৃতীয় ঢেউ কীভাবে সামাল দেবে ভারত? উঠছে প্রশ্ন।












Click it and Unblock the Notifications