বিচারবিভাগকে আক্রমণ করার চেষ্টা! উদ্বিগ্ন ৬০০ আইনজীবীর চিঠি প্রধান বিচারপতিকে
একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিচার বিভাগের ওপরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দেশের ছ'শোর বেশি আইনজীবী প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন হরিশ সালভে, পিঙ্কি আনন্দ, মননকুমার মিশ্র, হিতেশ জৈনের মতো আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, বিচার বিভাগের সার্বভৌমত্ব ও স্বায়ত্তশাসনকে আঘাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইনজীবীরা বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে এই বিশেষ গোষ্ঠী চাপের কৌশল নিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ বেশি করে দেখানো হচ্ছে। তাঁরা আরও বলেছেন, বিশেষ গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক কাঠামো ও বিচারপ্রক্রিয়ার আস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া দেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে এই চিঠি যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে আইনজীবীরা বলেছেন, বিচার বিভাগের তথাকথিত স্বর্ণযুগ সম্পর্কে মিথ্যা প্রচার করছে বিশেষ গোষ্ঠী। আদালতের প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস করতে এহং বর্তমান কাজকে নিচু করে দেখাতে এটা করা হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এই দলটি একটি কৌশলের অধীনে কাজ করছে। নিজেদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডার ভিত্তিতে আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা কিংবা প্রশংসা করা হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে, ভিত্তিহীন অভিযোগ ও রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা দিয়ে বিচার বিভাগের সুনামকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দিনে কিছু আইনজীবী রাজনীতিবিদদের রক্ষা করছেন আর রাতে মিডিয়ার মাধ্যমে বিচারপতিদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
আইনজীবীরা বলেছেন, রাজনীতিকরা কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন, পরে আদালতে অভিযুক্তরা রক্ষা পেয়ে যান। আদালতের সিদ্ধান্ত যদি তাদের পছন্দমতো না হয়, তাহলে আদালতের বইরে ও মিডিয়ার সামনে আদালতের সমালোচনা করা হচ্ছে।
এছাড়াও বিচারপতিদের বেঞ্চের গঠনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিচারপতিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। আইনজীবীরা এসব কর্মকাণ্ডকে শুধু অসম্মানজনকই নয়, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের নীতির জন্যও ক্ষতিকারক বলে মন্তব্য করেছেন। আইনজীবীদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের আদালতকে সেইসব দেশের সঙ্গে তুলনা করার পর্যায়ে চলে গিয়েছে, যেখানে আইনের শাসন নেই।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে বেশিরভাগ কৌশলই গ্রুপের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ২০১৮-১৯ সালেও তৈরি করা হয়েছিল। আইনজীবীরা বিচার বিভাগের সততা বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্টকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications