দানবের মত শহর-গ্রাম গ্রাস করেছে বন্যা, মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, পাকিস্তানের সংকটে মর্মাহত মোদী
দানবের মত শহর-গ্রাম গ্রাস করেছে বন্যা, মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, পাকিস্তানের সংকটে মর্মাহত মোদী
রাক্ষুসে বন্যা যেন থাবা বসিয়েছে পাকিস্তানে। দেশের তিন ভাগ অংশ জলে ডুবে গিয়েছে। হাজারের বেশি মানুষ মারা গিেয়ছে। দশকে এই ভয়ঙ্করতম বন্যা দেখছে পাকিস্তান। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টুইটে মোদী মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বন্যা বিধ্বস্ত এলাকার মানুষ শীঘ্র স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন আশা প্রকাশ করেছেন মোদী।

বিধ্বংসী বন্যায় ভাসছে পাকিস্তান। দেশের তিনভাগ অংশ প্রায় জলের তলায় চলে গিয়েছে। পাকিস্তােনর পাঞ্জাব-সিন্ধ প্রদেশ-খাইবার পাখতুনওয়া। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ১১৩৬ জন মারাগিয়েছেন এই বিধ্বংসী বন্যায়। আহত হয়েছে ১৬৩৪ জন। দেশের প্রায় ৩৩ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শহবাজ শরিফ। ১কোটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যায় এতটাই খারাপ অবস্থা পাকিস্তােনর যে এখনো একাধিক জায়গায় ত্রাণ পৌঁছতে পােরনি। অসংখ্য মানুষ খাবার পানীয় জল ছাড়াই রয়েছে। তাঁরা কোনো রকম ত্রাণ পাচ্ছেন না। অত্যন্ত দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। কয়েক মিিলয়ন হেক্টর চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে । ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। পাকিস্তানের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও এই ভয়ঙ্কর বন্যার মধ্যে উদ্ধারকাজ চলাতে পারছে না।
হঠাৎ করে এই ভয়ঙ্কর বন্যার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। লাহোরের জলবায়ু বিজ্ঞানী মহসীন হাফিজ জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম মাশুল দিচ্ছে পাকিস্তান। একদিকে প্রবল বর্ষণ। আর আরেক দিকে প্রবল গরমে হিমবাহ গলে যাওয়া। এই দুইয়ের জেরে এই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে পাকিস্তান। ভারতের আবহাওয়াবিদরা দাবি করেছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতি বর্ষণ হয়েছে পাকিস্তানে। এক এক দিেন স্বাভাবিকের থেকে ৩ গুণ বেশি বর্ষণ হয়েছে। তার জেরেই এইপরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ বর্ষাকালে যেখােন পাকিস্তানে দিনে ৩৭.৫ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে। যা স্বাভাবিকের থেকে ৩ গুণ বেশি। অর্থাৎ ৪০০ শতাংশ বেশি বর্ষণ হয়েছে পাকিস্তানে। যার জেরে ৩০টি জলাধার থেকে জল ছাড়তে হয়েছে।
গরমেও এবার চরম রূপ দেখেছে পাকিস্তান। তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছিল। কোথাও কোথাও আবার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল। দাদো, জ্যাকোবাদাদে ৫০ডিগ্রি তাপমাত্রা হয়েছিল এবার। তার জেরেই বর্ষার দাপট বেড়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বন্যার আরেকটি কারণ হড়পা বান। পাকিস্তানের হিমালয়ের একাধিক জায়গায় হিমবাহ গলেছে প্রবল তাপে। তার জেরে একাধিক জায়গায় হড়পা বান দেখা দিয়েছিল। সব মিলিয়ে বন্যায় ছাড়খার হয়ে গিয়েছে পাকিস্তান।












Click it and Unblock the Notifications