ভুল করে অ্যাকাউন্ট ঢোকে ১ লক্ষের বেশি টাকা, টাকা ফেরত না দেওয়ায় গ্রেপ্তার ঝাড়খণ্ডবাসী
কাল হল আধার কার্ড! দুই বছর আগে এক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির আধার কার্ড লিঙ্ক হয়ে যায়, আর তাতেই ঘটে যায় বিপত্তি। জানা গিয়েছে জিত্রাই সামন্ত নামে এক ব্যক্তির আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক হয়ে যায় এক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।

কী পেশায় যুক্ত জিত্রাই
পেশায় জিত্রাই সামন্ত একজন বিড়ি বাঁধার একজন কর্মী। ৪২ বছরের জিত্রাই সেই টাকা তুলে নেন। সেই সময় মহিলাটি এই ঘটনার জন্য অভিযোগও করে ছিলেন। ঘটনাটি ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার।

কোন সময়ে ঘটেছে ঘটনাটি
মামলা চলাকালীন জিত্রাই সামন্তকে পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সঠিক সময়ে হাজির হননি। আর সেই কারণেই পুলিশ তাকে গ্রপ্তার করেছেন। জানা গিয়েছে, করোনা মহামারীর সময় কমন এক সার্ভিস সেন্টারের (এটি গ্রামীণ একটি সেবাকেন্দ্র, যেখানে জনসেবা, কল্যাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সকল বাসিন্দারা সুযোগ সুবিধা পান) মাধ্যমে জিত্রাই জানতে পারেন এই অর্থ সম্পর্কে।

কী জানালেন শ্রীমতি
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীমতি লাগুরির কাছ থেকে ঝাড়খণ্ড রাজ্য গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার একটি অভিযোগ পেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন তার ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে গেছে। তারপর পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হয়, তারপর জানা যায় শ্রীমতি লাগুরির ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে জিত্রাই সামন্তের আধার কার্ডের লিঙ্ক হয়ে যায়।
সেই সময় জিত্রাই সামন্তকে বলা হয়েছিল টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু জিত্রাই সেই টাকা ফিরিয়ে দেননি। তখন শ্রীমতি মুফাসিল থানায় জিত্রাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তখন সামন্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির আইপিসির অধীনে ধারা ৪০৬ (বিশ্বাসের অপরাধমূলক লঙ্ঘন) ও ৪২০ (প্রতারণা)- এর অধীনে অক্টোবরে তার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।

কেন হাজিরা দেননি সামন্ত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিত্রাই সামন্ত টাকা তোলার সময়ে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম দেখে ছিলেন। সেটি তিনি পাত্তা দেননি। সামন্তকে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পুলিশের সামনে হাজিরা হওয়ার জন্য তিনটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, নোটিশ পাওয়ার পরেও সামন্ত হাজিরা দেননি। ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ধারা ৪১ এ, যার অধীনে পুলিশ একজন ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে, যদি সেই ব্যক্তি নোটিশ পাঠা নোরপরেও হাজিরা দিতে না আসেন।

কী জানালেন জিত্রাই
জিত্রাই সামন্ত জানান, করোনার লকডাউনের সময় বলা হয়েছিল যে, আর্থিক দুর্বল ব্যক্তিদের কিছু সাহায্য করা হয়, তাই আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক করতে হবে। আর সেই সময় আমি মেশিনে বুড়ো অঙ্কুল দিয়ে আমার ব্যালেন্স দেখার ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা। সেই সময় আমি ব্যঙ্কে ছুটে যাই এবং জিজ্ঞাসা করলে তারা সরকারকে কথাটি জানাতে বলেন।
তিনি এও জানান, পুলিশি একটি নোটিশের জবাবে তিনি একটি চিঠিও পুলিশকে দিয়েছিলেন। লকডাউনের সময় গ্রামে কথা হচ্ছিল, যে মোদী সরকার আধার কার্ড ভিত্তিক অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছেন। সেই সময় ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমি কী টাকা তুলতে পারি, তিনি আমাকে জানিয়েছেন হ্যাঁ তুলতে পারেন।
বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু এই ঘটনায় আমার কোনও দোষ নেই। আমার অজান্তেই আমার আধার কার্ডের সঙ্গে অন্য কারোর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা হয়েছে। গত দুই বছর ধরে ব্যাঙ্ক আমাকে কিছু জানায়নি।

পুলিশ সুপারের মত কী
পুলিশ সুপার আশুতোষ শেখর জানিয়েছেন, সামন্ত সিএসসি পয়েন্টে ঘুষ দিয়েছিলেন যাতে অন্য কেউ জানতে না পারে সেই জন্য। যখন পুলিশ তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে টাকা পাঠিয়েছেন।

ব্যাঙ্কের ম্যানেজার কী জানান
ব্যাঙ্কের ম্যানেজার মনীশ কুমার জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে যখন SBI -এর সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক করার সময়ে জানা গিয়েছিল সামন্তের আধার নম্বর ভুলবশত অন্য কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক হয়ে গিয়েছে। মহিলাটি আগে অভিযোগ করেনি, নাহলে আমরা আগেই এটি বন্ধ করতে পারতাম।

কত টাকা ছিল জিত্রাইয়ের অ্যাকাউন্টে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিত্রাই সামন্ত প্রথম পুলিশি নোটিশ পাওয়ার পর স্টেশনে এলেও টাকার ফেরত দেওয়ার কোনও কথা বলেননি। সামন্তের অ্যাকাউন্টে মাত্র ৬৫০ টাকা ছিল, তিনি প্রথমে ৫০০, তারপর ৫ হাজার, এভাবেই টাকা তুলতে থাকেন।












Click it and Unblock the Notifications