যাত্রীদের চাপে বিপত্তি, পাহাড়ে মাঝে মধ্যেই ধস! চারধাম যাত্রা নিয়ে সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা
হিমালয়ে বারে বারে ভূমিধস আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমালয় বসে যাওয়া ছাড়াও সেখানে হওয়া নির্মাণ কাজ এবং ভ্রমণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ার কারণে হিমালয় ভার বহনে অক্ষম হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সেখানকার মানুষদের জন্য বিপদ আরও বাড়বে বলেই সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।
এর আগে যোশীমঠের বাড়িগুলিতে ভয়াবহ ফাটল লক্ষ্য করা গিয়েছিল। অনেকেই বাড়ি ঘর ছেড়ে নিজেদের মতো করে আশ্রয়স্থল বেছে নিয়েছিলেন। সেখানকার রাস্তা চওড়া করার কাজও এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এই ধরনের নির্মাণ জলবায়ু সংক্রান্ত বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এছাড়াও পরিবেশবিদরা চারধাম যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের সংখ্যার ওপরে উত্তরাখণ্ড সরকারের নিষেধাজ্ঞা তোলার ব্যাপারেও প্রশ্ন তুলেছেন। এখানে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন মাত্র ৫৫০০ যাত্রীকে যমুনোত্রী, ৯০০০ যাত্রীকে গঙ্গোত্রী, ১৫ হাজার যাত্রীকে বদ্রীনাথ এবং ১৮ হাজার যাত্রীকে কেদারনাথে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুতই বাড়ছে।
বাড়তি যাত্রীকে চারধামে পৌঁছে দিতে তাই যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। সেই কারণে পাহাড়ের পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তা প্রশস্ত করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবিদরা। গত ৪ মে যোশীমঠ যাওয়ার পথে হেলাংয়ের কাছে পাহাড়ে ধস নামে। সেই জায়গাতেই চলছি রাস্তা চওড়া করার কাজ।
সাধারণভাবে পাহাড়ে বেশি মানুষের যাওয়া মানেই দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া। বেশ লোক যাওয়া মানেই আমর্জনা বাড়িয়ে দেওয়া। এর মধ্যে যেমন রয়েছে প্লাস্টিক বর্জ্য ঠিক তেমনই রয়েছে ঘোড়া ও গাধার মলও। পাহাড়ে বেশি মানুষের যাতায়াতে বাড়ছে তাপমাত্রাও, গলছে হিমবাহ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাহাড়ে থেকে বিরল ভেষজ উদ্ভিদও হারিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের তরফে চারধাম সংযোগকারী সড়ক প্রকল্প নেওয়া হয়। পরিবেশবিদরা বলেছিলেন এই প্রকল্প আসলে হিমালয়ের ওপরে আক্রমণ। আগে রাস্তার প্রস্থ ৫.৫ মিটার থাকলেও ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাকে ১০ মিটার করার অনুমতি দেয়। তার পর থেকেই বাড়ছে বিপদ।
পরিবেশ নিয়ে গবেষণাকারী আইআইটি খড়গপুরের ভূতত্ত্বের অধ্যাপক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, হিমালয়ে ভূমিধসের সব থেকে বড় কারণ হল রাস্ত .চওড়া করা। রাস্তা চওড়া করতে গেলে পাহাড় কাটতে হয়। আর নিচের অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেই পাহাড় ভেঙে নিচের দিকে নেমে আসে।
এছাড়াও হিমালয়ে বিশেষ করে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হওয়ার সমস্যা বৃদ্ধির কারণ। প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে দেখা যচ্ছে ঋষিকেশ থেকে যোশীমঠ পর্যন্ত ২৪৭ কিমি রাস্তায় ৩০৯ টি ভূমিধ্স হয়েছে। এর অর্থ হল প্রতি এক কিমিতে ভূমিধস হয়েছে ১.২৫ টি।
-
ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধার, 'আমরা উদ্ধার করেছি', সগর্বে ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের -
'৪মের পরে তৃণমূলের সব পাপের হিসাব হবে', কোচবিহারের জনসভা থেকে অলআউট আক্রমণে প্রধানমন্ত্রী মোদী -
উত্তরের কোচবিহার দিয়ে নতুন করে বাংলায় ভোটপ্রচার শুরু প্রধানমন্ত্রী মোদীর -
ঋষভ পন্থের ব্যাটে প্রথম জয় পেল লখনউ, ফের হারল হায়দরাবাদ -
কেরল বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: সমীক্ষায় ইউডিএফের এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস, হারার ইঙ্গিত এলডিএফের -
ইডেনে প্রবল বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল পাঞ্জাব ম্যাচ, বরুণ দেবের কৃপায় পয়েন্টের খাতা খুলল কেকেআর -
আর্টেমিস অভিযানে যাওয়া মহাকাশচারীরা যোগাযোগ হারাবেন পৃথিবীর সঙ্গে!











Click it and Unblock the Notifications