২০১৯ আর্থিকবর্ষের ভারতের প্রবৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস ৫.৬ শতাংশে কমিয়ে আনল মুডিজ
২০১৯ সালে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস প্রকাশ করল আমেরিকার ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিজ। আগের প্রায় ৮ শতাংশ থেকে সেই প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৫.৬ শতাংশ ধার্য করেছে।
২০১৯ সালে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস প্রকাশ করল আমেরিকার ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিজ। আগের প্রায় ৮ শতাংশ থেকে সেই প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৫.৬ শতাংশ ধার্য করেছে। তবে ২০২০ ও ২০২১ সালে সেই প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধির হার ৬.৬ ও ২০২১ সেটি ৬.৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

আগেও ভারতের অর্থনীতিকে লাল সংকেত দেখিয়েছিল মুডিজ
এর আগেও ভারতের অর্থনীতিকে লাল সংকেত দেখিয়েছিল আমেরিকার ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি। এর আগে মুডিজের তরফ থেকে ভারতের রেটিংকে 'স্থিতিশীল' থেকে নামিয়ে 'নেতিবাচক' করে দিয়েছে। আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার না বাড়ায় এই রেটিং বদল বলে জানা গিয়েছে।

মুডিজের রিপোর্ট
এদিকে এই প্রবৃদ্ধির হার প্রসঙ্গে একটি রিপোর্টে মুডিজ বলে, 'আমরা ভারতের ২০১৯ আর্থিক বর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস ৫.৬ শতাংশ রেখেছি। গত বছর এই প্রবৃদ্ধির হার ৭.৪ শতাংশ ছিল। তবে ২০১৮ সালের মাঝআমাঝি সময় থেকে ভারতের অর্থনীতি পড়তে শুরু করে। ২০১৯ আর্থিক বর্ষে প্রথম ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) সেই প্রবৃদ্ধির হার ৮ থেকে ৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকে।'

গত ছয় বছরে সব থেকে নিচে নামে প্রবৃদ্ধির হার
নিম্নগামী গ্রাফ বজায় রেখেই চলতি অর্থবর্ষের জুলাই থেকে সেম্পটেম্বরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৫ শতাংশে। গত আর্থিক ত্রৈমাসিকে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ। গত বছরে এই ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি হার ছিল ৭ শতাংশ। গত ছয় বছরে এটাই জিডিপি হারের নিরিখে সব থেকে কম বৃদ্ধি। পাশাপাশি জানা গিয়েছে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৭.২ লক্ষ কোটি টাকা। যা ইতিমধ্যে সরকারের পূর্ণ আর্থিক বর্ষের বাজেটের হিসাব ছাড়িয়ে গিয়েছে।

কর্পোরেট কর কমিয়েও বাড়েনি প্রবৃদ্ধির হার
এর আগে সেম্পটেম্বর মাসে কর্পোরেট কর কমানোর সিদ্ধান্তের পর মনে করা হয়েছিল দেশে উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে জিডিপিও উর্ধ্বমুখী হবে বলে মনে করা হয়েছিল। তবে সরকারের সেই পদক্ষেপের পরও আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল মুডিজ। তারা জানিয়েছিল এই সিদ্ধান্তের জেরে সরকারের আর্থিক ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়বে। তবে সেই সময় তারা বলেছিল, কর কমানোয় কর্পোরেট ক্ষেত্রে ঋণ নিয়ে ব্যবসার অগ্রগতি হবে।

আইএমএফ-এর রিপোর্টেও ছিল আশঙ্কাবাণী
শুধু মুডিজ নয়, অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রকাশ করা রিপোর্টেও আশঙ্কা বার্তা ছিল ভারতের জন্য। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের তথ্য অনুযায়ী ভারতের সমষ্টিগত অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির পরিমাণ কমে দাঁড়ালো ৬.১ শতাংশে। গত জুলাইতে যা ছিল ৭শতাংশের কাছাকাছি।












Click it and Unblock the Notifications