বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিপদ সংকেত! অর্থনীতির বেহাল দশার জেরে ভারতের রেটিং কমাল মুডিজ
করোনা ভাইরাস জর্জরিত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে অনেক বিশেষজ্ঞরই মত ছিল যে এটা পর্যাপ্ত নয়। অনেকেই মনে করছিল, রাজকোষের ঘাটতি বাড়িয়ে লকডাউনে উদারহস্ত হতে চায়নি কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের ভয় ছিল, তাতে ভারতের রেটিং কমিয়ে দেবে সংস্থাগুলি। যার জেরে বিনিয়োগকারীরা আর আসবে না দেশে।

ভারতের রেটিং Baa3-তে নামিয়ে আনল মুডিজ
তবে সেই ভয়টাই সত্যই হল। এ দিন মুডিজ ইনভেস্টরস সার্ভিস ভারতের রেটিং Baa2 থেকে কমিয়ে Baa3-তে নামিয়ে আনল। এটা একদম নিচের রেটিংয়ের উপরের ভাগ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই রেটিং আরও কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে রাখল। মুডিজের অনুমান, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ৪ শতাংশ হারে ভারতে জিডিপি সংকুচিত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

রেটিং কমানোর তিনটি কারণ
রেটিং কমানোর তিনটি কারণ দেখিয়েছে মুডিজ। প্রথম, দেশের আর্থিক ক্ষেত্রের দুরবস্থা জারি থাকবে। দ্বিতীয়, সরকারের রাজকোষের অবস্থা আরও সঙ্গীন হবে এবং তৃতীয়, ভারতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির পথে এই সমস্ত বাধা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি কার্যকর করতে দেশের নীতি-নির্ধারক সংস্থাগুলিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

ভারতীয় অর্থনীতির বেহাল দশা
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে মুডিজ ভারতের রেটিং Baa3 থেকে বাড়িয়ে Baa2 করেছিল। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে দেশের প্রবৃদ্ধি হার নেমে গেল ৩.১ শতাংশে। আজ রিপোর্ট পেশ করে এই কথা জানানো হয় কেন্দ্রের তরফে। পুরো ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার এর জেরে নেমে দাঁড়ায় ৪.১ শতাংশে। আগে মনে করা হচ্ছিল এই হার থাকবে ৪.৭ শতাংশে। তবে করোনার জেরে ১১ বছরে সব থেকে নিচে নেমে গেল দেশের প্রবৃদ্ধির হার।

মুডিজ-এর বিবৃতি
এদিন মুডিজ-এর তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'সরকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারগুলি কার্যকর করবে এবং তার ফলে দেশের অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং কর ব্যবস্থা উন্নত হবে, এই অনুমান করে তখন আমরা ভারতের রেটিং বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু, তার পর থেকেই ওই সংস্কারের কাজ ঝিমিয়ে গিয়েছে যে কারণে দেশের অর্থনীতি বা নীতি-নির্ধারক প্রতিষ্ঠানগুলির উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নতি হয়নি।'












Click it and Unblock the Notifications