নরেন্দ্র মোদীর শপথ: বাঙালি খানা পটলের দোরমা, রসগোল্লা রয়েছে মেনুতে

তবে মেনুতে ভেবেচিন্তেই বিরিয়ানি রাখার অনুমতি দেননি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি নরেন্দ্র মোদীর 'মুখ বাঁচিয়েছেন' বলে জল্পনা শোনা যাচ্ছে। কারণ, ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের 'বিরিয়ানি কূটনীতি'-কে বারবার বিঁধেছেন নরেন্দ্র মোদী। ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানো সত্ত্বেও কেন পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ডেকে বিরিয়ানি খাওয়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সোমবার তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ থাকবেন। তাই মেনুতে বিরিয়ানি রাখলে পাছে নতুন সরকারকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, সেটা বুঝে ওই খাবার রাঁধতে নিষেধ করেছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।
তবে বিরিয়ানি না থাকলেও যা রয়েছে মেনুতে, তা জিভে জল আনার পক্ষে যথেষ্ট। অভ্যাগতদের স্বাগত জানানো হবে তরমুজের ঠান্ডা শরবত দিয়ে। স্টার্টারে থাকবে চিকেন হাজারবি, তন্দুরি আলু, গলৌটি কাবাব, আরবি কে কাবাব, ভেজিটেবল স্টু (কেরল স্টাইল), জয়পুরি ভিন্ডি (রাজস্থানি স্টাইল), মটর কি খাস্তা পোটলি, স্যান্ডউইচ, ভেজিটেবল কাটলেট ইত্যাদি। সঙ্গে চা, কফি।
মেন কোর্সে থাকছে চিকেন চেট্টিনাড (তামিলনাড়ু স্টাইল), প্রন কারি (কেরল স্টাইল), বীরবল কোফতা কারি, কঢি, কেলা মেথি নু শাক (জিরে, মেথি দিয়ে শাক), ডাল মাখানি, চিকেন মশালা (পাঞ্জাব স্টাইল), বাসমতী চালের ভাত ইত্যাদি। আর রাষ্ট্রপতি যখন বাঙালি, তখন বাঙালি খানা থাকবে না, সেটা কী হয়! মেনুতে থাকছে পটলের দোরমা, আলু পোস্ত, রসগোল্লা আর নানাবিধ সন্দেশ। রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রণববাবুর জন্য যে রাঁধুনিরা বাঙালি খাবার বানান, তাঁরাই এ দিন বাঙালি পদ বানাবেন। পাশাপাশি, নরেন্দ্র মোদী যেহেতু গুজরাতি, সে কথা মাথায় রেখে ধোকলা, খাকড়া, খাণ্ডবি ইত্যাদি গুজরাতি পদও রয়েছে মেনুতে। আবশ্যিকভাবে থাকছে রায়তা ও পাঁপড়।
শেষ পাতে নানাবিধ সন্দেশ, রসগোল্লা ছাড়াও অন্যান্য মিষ্টান্নের আয়োজন থাকছে। রয়েছে শ্রীখণ্ড (মারাঠি মিষ্টি ), আনারসের হালুয়া, গোলাপজাম, রাবড়ি।
সব মিলিয়ে আজ রাতে চার হাজার লোকের পাত পড়বে রাষ্ট্রপতি ভবনে। তাই সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে রান্নার আয়োজন। অতিথিবৎসল প্রণব মুখোপাধ্যায় নিজে খানাপিনার বিষয়টি তদারকি করছেন।












Click it and Unblock the Notifications