মোদী হাওয়া ও ভোট ভাগাভাগিতে বাংলায় আসন দ্বিগুন হতে পারে বিজেপির

১৯৯৯ সালে একবারই ২টি লোকসভা আসন জিতেছিল। তাও তৃণমূলের সঙ্গে জোট ছিল বিজেপির। এবং এই জোটের ফলে গেরুয়া দলের ভোট ভাগাভাগিটে তৃণমূলের ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি। এই জোট ভঙ্গ হওয়ার পর আর তেমন কোনও সুবিধাই এককভাবে বাংলায় করতে পারেনি বিজেপি।
২০১২ সালে জঙ্গীপুরে লোকসভা উপনির্বাচনে ১১ শতাংশ ভোট ভাগ সুরক্ষিত করেছিল বিজেপি। এবারের নির্বাচনেও বিজেপি বাংলা থেকে অত্যন্ত ভাল ফল করবে বলেই আশা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান রাহুল সিনহার। তাঁর দাবী, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পর ভোট ভাগে বিজেপিই দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ দল হবে। কংগ্রেস চতুর্থ স্থানে চলে আসবে।
কংগ্রেসের ভোট কমবে, এর বেশিরভাগটা তৃণমূলে আর কিছুটা বিজেপির ঘরে ঢুকবে
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নয়, সিপিএম নয়, বিজেপিই তৃণমূলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বলেও দাবী করেন তিনি। দলের অন্য এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা জানিয়েছেন, ২০০৯ সালে বিজেপির ভোট ভাগ যেখানে ৬ শতাংশ ছিল এবারের ভোটে তা ১৬ শতাংশ হতে পারে। এর ফলে বাংলায় ৪টি আসন পেতে পারে বিজেপি। বিজেপির দার্জিংলিং কেন্দ্রকে ধরে রেখে কৃষ্ণনগর, বনগাঁ এবং আসানসোলের আসন জিততে পারে বিজেপি। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং থেকে যশবন্ত সিং বিজেপির একমাত্র আসনটি পেয়েছিলেন। এবার ওই আসনে দাঁড়িয়েছেন এস এস আলুওয়ালিয়া। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থন মেলায় ওই আসনটি বিজেপি জিতবেই বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় কৃষ্ণনগর থেকে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৯৯ সালে এই আসন থেকেই জিতেছিলেন তিনি। আসানসোল থেকে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী বাবুল সুপ্রিয়। যদিও বিজেপির দলীয় সূত্রের খবর, বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি কমজোর হওয়ায় বেশি সংখ্যক আসন জেতার ক্ষেত্রে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্ষবেক্ষকদের অনুমান, তৃণমূল ও সিপিএমের পর বিজেপি ভোট ভাগে তৃতীয় বৃহত্তম দল হতে পারে। গত লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের ১৩.৪৫ শতাংশ ভোটভাগ এবারে অনেকটাই কমতে পারে বলে অনুমান। কংগ্রেসের এই ভোটের বেশিরভাগটাই যাবে তৃণমূলের ঘরে, আর কিছুটা যাবে বিজেপির কাছে। এমনকী বাংলায় বামেদের মাটিও বেশ নড়বড়ে। বামেদের কিছু শতাংশ ভোটও বিজেপির দিকে ঘুরতে পারে। তৃণমূল-কংগ্রেস-বামেদের ভোট ভাগাভাগির দৌড়ি কিছুটা লাভবান হতে পারে বিজেপির।












Click it and Unblock the Notifications