মোদী নেতানিয়াহু বৈঠকে প্রতিরক্ষা জোর, আয়রন ডোম থেকে বাণিজ্য, দ্বিতীয় দিনে কূটনীতির নতুন রূপরেখা
ইজরায়েল সফরের দ্বিতীয় দিনে কূটনৈতিক ব্যস্ততার শীর্ষে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সূচিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঐতিহাসিক শ্রদ্ধার্ঘ্য থেকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, সবকিছুতেই ছিল কৌশলগত বার্তা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তিনি যাবেন ইয়াদ ভাশেমে, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইজরায়েলের সরকারি হলোকস্ট স্মারক, যেখানে নাৎসি হত্যাযজ্ঞে নিহত ছয় মিলিয়ন ইহুদির স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সাক্ষাৎ করেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হার্ৎসগের সঙ্গে।
বিকেল গড়াতেই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর ইজরায়েলি সমকক্ষ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রতিনিধি স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর একাধিক সমঝোতা স্মারক (মউ) বিনিময় ও যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়। বিকেলট ৪ টায় ইজরায়েলে বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মোদী। এরপর সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে তাঁর নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এই সফরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাই মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ভারতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'সুদর্শন চক্র' ও ইজরায়েলের অত্যাধুনিক আয়রন ডোম প্রযুক্তির সম্ভাব্য সমন্বয় নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি ও চলমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনাকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য স্পষ্ট।
এর আগের দিন জেরুজালেমে ইজরায়েলি সংসদ কনসেটের বিশেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন মোদী, ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে যা ছিল প্রথম। সেই মঞ্চেই তাঁকে কনেসেটের সর্বোচ্চ সম্মান 'স্পিকার অফ দ্য কনেসেট মেডেল' এ ভূষিত করা হয়। বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইজরায়েলের পাশে থাকার বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য, এর আগে ২০১৭ সালে ইজরায়েল সফর করেছিলেন মোদী। সেই সফরে প্রতিরক্ষা, কৃষি ও জলব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন মাত্রা পায়। তখন বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন স্বয়ং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, যা দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।












Click it and Unblock the Notifications