তিস্তার জলবন্টন নিয়ে হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় মনমোহনের পথেই হাঁটলেন মোদী! তীব্র ক্ষোভ মমতার
দু'দিনের ভারত সফরে দিল্লিতে আসা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিস্তার জলবন্টন প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন।
এই ক্ষোভ তিস্তা নিয়ে আলোচনায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য। প্রসঙ্গত, শনিবার নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের মধ্যে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী ফরাক্কা দিয়ে ১৯৯৬ সালের জলবন্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ফরাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬-এ।

শনিবার ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে তিস্তা নিয়ে আলোচনা যেন ১০ বছর আগের অর্থাৎ ২০১৩-তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং শেখ হাসিনার আলোচনার পুনরাবৃত্তি বলেই মনে হচ্ছে। সেই সময়ও কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বাংলাদেশের সঙ্গে জলবন্টন নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করেনি। তবে বলে রাখা ভাল, তিস্তার জলবন্টন নিয়ে সেই চুক্তি এখনও হয়নি। যা প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিরোধের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ঘোষণা করেছেন, ভারত-বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়ে প্রযুক্তিগতস্তরে আলোচনা শুরু করবে। এছাড়াও ভারতের একটি প্রযুক্তিবিদদের দল তিস্তার সংরক্ষণ এ ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করবে।
গঙ্গা হোক বা তিস্তা, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত নদীগুলির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ হল গুরুত্বপূর্ণ স্টেক হোল্ডার। কিন্তু সেই সংক্রান্ত আলোচনায় তাঁকে না ডাকায় বিষয়টিকে অপমানজনক হিসেবে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র জল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেনি বলেও অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার এব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমকে বিবৃতি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন।
সূত্রের খবর এব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে নদী নিয়ে আলোচনায় স্টেকহোল্ডার রাজ্যকে আলোচনার বাইরে রাখা শুধু ফেডারেল বিরোধী পদক্ষেপ নয়, এটা বাংলার জনগণকে তাঁদের বক্তব্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তৃণমূল।
তৃণমূল সাংসদরা সংসদের অধিবেশনে এই বিষয়টি তুলতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব এব্যাপারে ইন্ডিয়া ব্লকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। তৃণমূল মুখপাত্র ডেরেক ও'ব্রায়েন অভিযোগ করেছেন, গঙ্গার ড্রেজিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যা বন্যা ও ভাঙনের প্রাথমিক কারণ। বিষয়টিকে বাংলাকে বিক্রির পরিকল্পনা বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications