অঙ্গদানকে উৎসাহিত করতে মোদী সরকারের এক জাতি-এক নীতি! বাস্তবায়নে কাজ শুরু স্বাস্থ্যমন্ত্রকের
অঙ্গদানের মোদী সরকারের এক জাতি-এক নীতি। এই নীতিতে সারা দেশে অঙ্গদানকে আরও উৎসাহিত করা যাবে এবং আরও বেশি সংখ্যক মুর্মুর্ষু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যাবে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অঙ্গদানে বাঁচে প্রাণ। কোনও এক মৃত ব্যক্তির থেকে ন্যূনতম চারজন প্রাণে বাঁচতে পারেন। অন্যদিকের হিসেবে সংখ্যাটা আরও বেশিই। তবে পশ্চিমী দেশগুলির তুলনায় ভারতে অঙ্গদানের হার কম। প্রতি দশলক্ষে ভারতে অঙ্গদান মাত্র ০.৩। তুলনায় পশ্চিমী দেশগুলিতে এই সংখ্যাটা ৩৬।

অঙ্গদান বাড়লেও সংখ্যাটা অপর্যাপ্ত
ভারতে অঙ্গদান বাড়লেও, জনসংখ্যা অনুযায়ী তা অপর্যাপ্ত। সাধারণভাবে অঙ্গদান, প্রয়োজনের সময় রোগীদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন সহজ করে তোলে। বলা যেতে পারে অস্ত্রোপচারের কৌশল, অঙ্গ সংরক্ষণ এবং ফার্মাকো ইমিউনোলজিকের মতো সুবিধাগুলির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হয়েছে।

ভারত সরকারের এক জাতি, এক নীতি
অঙ্গদান নিয়ে ভারত সরকারের এক জাতি এক নীতি চালু হয়েছে। আগে সাধারণভাবে কোনও ব্যক্তি যে রাজ্যের বাসিন্দা, সেই রাজ্যে অঙ্গ নেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করতে পারতেন। বর্তমানে ভারত সরকারের তরফে এই নীতি বিলোপ করা হয়েছে। সেখানে যাঁরা যে যে ব্যক্তির অঙ্গের প্রয়োজন, তিনি যে কোনও রাজ্য গিয়ে অঙ্গ পাওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন এমন কী প্রতিস্থাপন করতে পারবেন। আগে ৬৫ বছরের বেশি বয়সের কোনও ব্যক্তির অঙ্গ গ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল। তবে ভারত সরকার এই সময়সীমা বাতিল করে দিয়েছে। এখন যে কোনও বয়সের ব্যক্তি যে কোনও অঙ্গ গ্রহণের জন্য নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। আগে কোনও কোনও রাজ্য অঙ্গ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে গেলে রেজিস্ট্রেশন চার্জ হিসেবে ৫ হাজারা থেকে ১০ হাজার টারা ফি নেওয়া হত। কেরল, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাতের মতো রাজ্যগুলি এই ধরনের ফি নিত। বর্তমানে ভারত সরকারের তরফে সব রাজ্যকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই বিষয়টি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

বাড়ছে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সংখ্যা
দেশ জুড়েই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৩ সালে সংখ্যাটা যেখানে ছিল ৪৯৯০, সেখানে ২০২২-এ তা বেড়ে হয়েছে ১৫৫৬১। বেড়েছে কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যাও। বিশেষ করে জীবিত দাতাদের থেকে। ২০১৩ সালে সংখ্যাটা ছিল ৩৪৯৫। সেখানে ২০২২-এ সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৯৮৩৪। অন্যদিকে মৃত দাতাদের থেকে কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যাটা ২০১৩-তে ৫৪২ থেকে বেড়ে ২০২২-এ হয়েছে ১৫৮৯।
অন্যদিকে জীবিতদের থেকে লিভার প্রতিস্থানের সংখ্যা ২০১৩ সালে ৬৫৮ থেকে ২০২২-এ বেড়ে হয়েছে ২৯৫৭। আর মৃতদের থেকে এই প্রতিস্থাপনের সংখ্যা ২০২৩-র ২৪০ থেকে ২০২২-এ বেড় হয়েছে ৭৬১।

বেড়েছে হৃদয় এবং ফুসফুস প্রতিস্থাপনের সংখ্যা
২০১৩ সালে হৃদয় প্রতিস্থাপনের সংখ্যাটা ছিল ৩০। যা ২০২২-এ বেড়ে হয়েছে ২৫০। অন্যদিকে ২০১৩-তে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের সংখ্যা ২০১৩ সালে ২৩ থেকে বেড়ে ২০২২-এ হয়েছে ১৩৮।
(ফাইল ছবি)












Click it and Unblock the Notifications