সারা দেশে কোচিং সেন্টারগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে কড়া পদক্ষেপ মোদী সরকারের! জারি একগুচ্ছ নির্দেশিকা
সারা দেশে কোচিং সেন্টারগুলি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ষোলো বছরের কম বয়সী ছাত্রছাত্রীদের কোচিং সেন্টারে নথিভুক্ত করা যাবে না। সেখানে আরও বলা হয়েছে, কোচিং সেন্টারগুলি অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি বা গ্যারান্টি দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েশনের কম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকশিক্ষিকাদের কোচিং সেন্টারে পড়াতে দেওয়া উচিত নয়।
এছাড়া অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করলে বা অসদাচরণ জড়িত থাকলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা কোচিং সেন্টারের নথিভুক্তিকরণ বাতালি করার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যা, কোচিং সেন্টারগুলিতে সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং সেখানকার শিক্ষাদানের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের কাছে অভিযোগ জমা পড়ার পরে শিক্ষামন্ত্রকের তরফে এই নির্দেশিকা জারি করা হল।

শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে শুধুমাত্র মাধ্যমিক স্কুল পরীক্ষার পরে কোচিং সেন্টারে ছাত্রছাত্রীদের তালিকাভুক্তি হওয়া উচিত। সেখানে আরও বলা হয়েছে, কোচিং সেন্টারগুলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোচিংয়ের গুণমান বা এতে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা বা এই জাতীয় কোচিং সেন্টার ছাত্রছাত্রীদের ফলাফল নিয়ে কোনও দাবি করে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে কিংবা প্রকাশের কারণ হতে পারে না।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোচিং সেন্টারগুলি নৈতিক স্খলনজনিত কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোনও শিক্ষক বা ব্যক্তিকে সেখানে যুক্ত করতে পারবে না। কোচিং সেন্টারগুলিতে কাউন্সেলিং সিস্টেম না থাকলে সেগুলিকে নথিভুক্ত করা হবে না। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোচিং সেন্টারগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যোগ্যতা, পাঠ্ক্রম, পাঠ্যক্রম শেষ হওয়ার সময়, হস্টেলের সুবিধা এবং ফি নেওয়ার বিষয়ে ওয়েবসাইটে বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে।
কোচিং সেন্টারগুলিকে প্রতিযোগিতা ও ছাত্রছাত্রীদের ওপর অ্যাকাডেমিক চাপের উল্লেখ করে তাদের মানসিক সুস্থতার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলরদের নাম ও তারা কখন সেখানে থাকেন, সে সম্পর্কে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের তথ্য দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
২০২৩-এ রাজস্থানের কোটায় একের পর এক ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে থাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। নির্দেশিকা অনুসারে বিভিন্ন কোর্স ও পাঠ্যক্রমের জন্য নেওয়া ন্যায্য ও যুক্তি সঙ্গত টিউশন ফির রসিদ অবশ্যই দিতে হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি কোনও ছাত্রছাত্রী কোর্সের জন্য সম্পূর্ণ টাকা দেয় কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মাঝখানে কোর্স ছেড়ে চলে যায়, তাহলে তাঁদেরকে ১০ দিনের মধ্যে আনুপাতিক হারে বাকি সময়ের জন্য জমা করা টাকা ফেরত দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা ওই কোচিং সেন্টারের হস্টেলে থাকলে হস্টেল ফি এবং মেস ফিও ফেরত দিতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications