চিঁড়ে ভিজছে না এমএসপি বাড়ানোর সিদ্ধান্তেও! দেশজুড়ে ক্রমেই জোরদার হচ্ছে কৃষি বিল বিরোধী বিক্ষোভ
চিঁড়ে ভিজছে না এমএসপি বাড়ানোর সিদ্ধান্তেও! দেশজুড়ে ক্রমেই জোরদার হচ্ছে কৃষি বিল বিরোধী বিক্ষোভ
কৃষি বিল নিয়ে বিক্ষোভ-বিতর্কের মাঝেই গম সহ ৬ টি রবি শস্যের নূন্যতম সহায়ক মূল্য(এমএসপি) বাড়ানোর পথে হাঁটে সরকার। মোদীর কথায় কৃষি বিলের মতোই এমএসপি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পরেও মুখরক্ষ হল না কেন্দ্রে। বর্তমানে দেশজোড়া কৃষক আন্দোলনের কাছে কার্যত দিশেহারা মোদী সরকার।

কড়া প্রতিক্রিয়া ২২টি কৃষক সংগঠনের
বিরোধীদের সাফ জবাব, এভাবে কৃষকদের ক্ষোভের আগুনে কিছুতেই জল ঢালা যাবে। তাদের দুর্দশা নিয়েও নিষ্ঠুর রসিকতা করছে সরকার। এদিকে ইতিমধ্যেই কৃষি বিলে সই না করার আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখতে দেখা গেল ১৫ টি রাজনৈতিক দলকে। অন্যদিকে নূন্যতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে শেষবেলায় কৃষকদের যে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করছে সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন সহ ২২ টি কৃষক সংগঠনকে।

৫০ টাকা করে সহায়ক মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
নতুন কৃষি বিলে কৃষকদের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ যে নূন্যতম সহায়ক মূল্য তা বিলক্ষণ বুঝেছিল বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকার। তারপরেই তড়িঘড়ি ৬ টি রবি শস্যে কুইন্ট্যাল পিছু নূন্যতম ৫০ টাকা করে এমএসপি বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাতেও যে চিঁড়ে ভিজছে না তা দেশের বর্তমান অবস্থা দেখলেই অনুমেয়। গম, সরষের পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে সর্বাধিক সহায়ক মূল্য বাড়ে মুসুর ডালে।

ব্যাপক কৃষক আন্দোলনের প্রস্তুতিতে গোটা দেশ
এদিকে মোদী সরকারের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে প্রায় গোটা বিরোধী শিবিরই। ইতিমধ্যেই এই বিলের বিরোধীতা করতে দেখা গেছে পাঞ্জাবে এনডিএ জোটের অন্যতম প্রধান শরিক শিরোমনি অকালি দলকেও। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখাও করেন অকালি দলের নেতারা। অন্যদিকে বিলের প্রতিবাদে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ক্রমেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে কৃষক আন্দোলন।

ফারাক থাকছে সরকারে কথায় ও কাজে
এদিকে নতুন বিল যে এমএসপি ও সরকারি মান্ডি অবলুপ্ত করার জন্য আনা হয়নি তা এখন বারবার কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করছে সরকার। বর্তমানে কৃষকের উত্পাদন ব্যবসা ও বাণিজ্য (প্রচার ও সুবিধাদি) বিলের সপক্ষে সরকারের যুক্তি এরফলে সরকারি মান্ডির পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার কাছেও কৃষি পণ্য বেচতে পারবেন কৃষকেরা। কিন্তু কথায় ও কাজে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর এই চেষ্টায় বাদ সাধছে মোদী সরকারের শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তি।

২২টি কৃষি পণ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তার দাবি
কিন্তু বর্তমানে সরকারি আশ্বাসে কোনও ভাবেই ভরসা রাখতে পারছেন না কৃষকেরা। বিরোধী শিবির সহ দেশের একটা বড় অংশের কৃষকদের আশঙ্কা এরফলে আরও সহজেই কৃষি ক্ষেত্রে পুঁজিবাদের রাস্তা প্রশস্ত হবে। কর্পোরেট সংস্থাকে এনে পরোক্ষভাবে এমএসপি এবং সরকারি মান্ডি তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে সরকার। তা বর্তমানে ২২টি কৃষি পণ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তা আদায়ে ক্রমেই জোরদার হচ্ছে দেশব্যাপী আন্দোলন।












Click it and Unblock the Notifications