'আন্দোলন চলাকালীন কোনও কৃষকের মৃত্যু হয়নি, কাজেই ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন ওঠে না', সংসদে লিখিত বিবৃতি কেন্দ্রের
'আন্দোলন চলাকালীন কোনও কৃষকের মৃত্যু হয়নি, কাজেই ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন ওঠে না', সংসদে লিখিত বিবৃতি কেন্দ্রের
আন্দোলন চলাকালীন কোনও কৃষকের মৃত্যুর রেকর্ড নেই সরকারি খাতায়। কাজেই আর্থিক সাহায্যের প্রশ্নই উঠছে না। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের তৃতীয় দিনে লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানাল মোদী সরকার। বুধবার সংসদ অধিবেশনে লিখিত বিবৃতি দিয়ে একথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। বিরোধীরা মৃত কৃষকদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছিলেন সংসদে। তার প্রেক্ষিতেই এই লিখিত জবাব পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী।

বাতিল কৃষি আইন
গত ১ বছর ধরে কৃষকদের কৃষি আইনের বিরোধিতায় আন্দোলন থমকে গিয়েছে মোদী সরকারের একটি সিদ্ধান্তে। গুরুনানক জয়ন্তিতে মোদী সরকার ঘোষণা করেন কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। গোটা দেশে হইচই পড়ে গিয়েছিল। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সেটা কার্যকর করতে দেরি করেনি মোদী সরকার। শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে কৃষি আইন বাতিলের প্রস্তাবের অনুমোদন করিয়ে নেন তিনি। তারপরেই শীতকালীন অধিবেশন শুরু দিনেই রাজ্যসভা এবং লোকসভা দুই কক্ষেই কৃষি আইন বাতিলের প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন কেবল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষা। তাহলেই বাতিল হয়ে যাবে কৃষি আইন।

ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি
লোকসভা অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধীরা কৃষি আইন বাতিলের প্রস্তাবের উপর আলোচনা দাবি করেছিল। এই নিয়ে সংসদের দুই কক্ষে প্রবল বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু তাতে আমোল না দিয়েই এক প্রকার ধ্বনি ভোটে পাস করানো হয় সংসদ অধিবেশনের বিল। মোদী সরকার কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করার পর থেকেই বিরোধীরা সরব হয়েছিল মৃত কৃষকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য। এমনকী বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে মৃত কৃষকদের পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন আগে মোদী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলে ৭০০ কৃষকের মৃত্যু হত না।

সংসদে ক্ষতিপূরণ দাবি
এদিন সংসদ অধিবেশনে মৃত কৃষকদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের দাবিতে সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। তার প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর লিখিত বিবৃতিতে জানান সরকারি খাতায় কৃষক আন্দোলনের ১ বছরে একজন কৃষকের মৃত্যুর নথি নেই। কাজেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে লখিমপুরের ঘটনা কী। সেখানে যে চার কৃষককে গাড়ির চাকায় পিষে হত্যা করা হল তারও কি কোনও লিখিত নথি সরকারের খাতায় নেই। এদিকে বিরোধীরাও সংসদে দাবি করেছেন গত ১ বছরে কৃষক আন্দোলন চলাকালীন ৭০০ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

৫ রাজ্যের ভোট নজরে
শীতকালীন অধিবেশনের আগে তড়িঘড়ি কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়েই নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বিরোধীরা। সামনেই উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, মণিপর, হিমাচল প্রদেশ এবং গোয়া। এই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট রয়েছে। তারমধ্যে পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশের ভোট বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ। পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশের কৃষকরাই মূলত কৃষি আইনের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়েছিলেন কৃষকরা। উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়িতে পিষে হত্যা করা হয় কৃষকদের। তারপরেই চাপ বাড়তে শুরু করেছিল মোদী সরকারের উপর। শেষ ভোট ব্যাঙ্ক রক্ষা করতেই তড়িঘড়ি কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে মোদী সরকার।

কৃষকদের মন পেলেন না মোদী
কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্তের পরেও কিন্তু কৃষকদের মন পাননি মোদী। উল্টে বিজেপি হারুক সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে এমনই চাইছেন কৃষকরা। মহারাষ্ট্রে কৃষক মহাপঞ্চায়েতে এমন দাবি জানানো হয়েছে। ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং সব পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে যেন বিজেিপ হারে তার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন তাঁরা। কৃষি আইন বাতিলের পরেও কৃষকরা কিন্তু আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি। যতক্ষণ না মোদী সরকার কৃষকদের দাবি মেনে ফসলের সহায়ক মূল্য নিয়ে সমস্যার সামাধান করছেন ততদিন তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications