কর্নাটকে হাওয়া ঘুরছে ২৩-এ, বিজেপি-জেডিএস ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদানের হিড়িক
কর্নাটক নির্বাচনে জিতে এবার বিজেপিকে মোক্ষম ধাক্কা দিতে চাইছে কংগ্রেস। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে দক্ষিণের এই রাজ্যে জিতে কংগ্রেস ২০২৪-এর লক্ষ্য স্থির করতে বদ্ধপরিকর। আর এবার কর্নাটকের হাওয়া যে ঘুরতে শুরু করেছে, তার আভাস মিলেছে বিজেপি-জেডিএস ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদানের হিড়িকে।
সাম্প্রতিক সমীক্ষাতেও পূর্বাভাস কংগ্রেসের দিকে। একাধিক সমীক্ষা দেখিয়েছে কংগ্রেস এবার একাই ম্যাজিক ফিগার টপকে যেতে পারে। একাই সরকার গড়তে পারে দক্ষিণী এই রাজ্য। সম্প্রতি একটি সমীক্ষা দেখিয়েছে বিজেপি কর্নাটকে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে কাঁটে কা টক্কর হওয়ার সম্ভাবনা।

কর্নাটকের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী সাফ জানিয়েছেন, কংগ্রেসই ভবিষ্যৎ কর্নাটকে, কংগ্রেসই জিতবে এবার। বিজেপির শাসনে ভারতবর্ষের একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাজ্য হয়ে উঠেছে কর্নাটক। সেই কারণেই কর্ণাটকে বিজেপি ছেড়ে আজকে সবাই চলে আসছেন কংগ্রেসের দিকে।
তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে এই রাজ্যে কংগ্রেস জিতবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্নাটকের মানুষ আজ পরিবর্তন চাইছে। যেভাবে জোর করে কর্নাটকে ক্ষমতা দখল করেছিল বিজেপি, তার জবাব দিতে চাইছে কর্নাটকবাসী। ইতিমধ্যে কর্ণাটকের দুই বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। তারা কংগ্রেসে যোগ দেবেন বলে সূত্রের খবর।
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই অভিষোগ করেছেন, ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে তাদের নেতাদের ভাঙিয়ে নিয়ে কংগ্রেস এ রাজ্যে শক্তি বাড়াতে চাইছে। সম্প্রতি একজন বিজেপি বিধায়ক এবং একজন জেডিএস বিধায়ক দল ছেড়েছেন। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের এক মাস আগে শুক্রবার স্পিকারের অফিসে তাদের পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন।
যে সমস্ত বিধায়করা ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বা পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে থেকেই বেশিরভাগ কংগ্রেসে ফিরে আসছেন। বিজেপি বিধায়ক এন ওয়াই গোপালকৃষ্ণ প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক এবং চিত্রদুর্গের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন।
গোপালকৃষ্ণ চিত্রদুর্গের মোলাকালমুরু বিধানসভা আসন থেকে চারবারের কংগ্রেস বিধায়ক ছিলেন এবং ২০১৮ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে বেল্লারি আসন থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস বিধায়ক ছিলেন। গোপালকৃষ্ণ তফসিলি উপজাতি বাল্মীকি নায়ক সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।
জেডিএস বিধায়ক এ টি রামাস্বামী কর্নাটকের হাসান অঞ্চলের আরকালগুদ আসনের চারবারের বিধায়ক। তিনিও কর্নাটক বিধানসভার স্পিকার বিশ্বেশ্বর হেগড়ে কাগেরির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি কংগ্রেসে ছিলেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত। কংগ্রেস এবং জেডিএস বিধায়ক হিসাবেই তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ডি কে শিবকুমার এর আগে আভাস দিয়েছিলেন, বিজেপি এবং জেডিএস থেকে কয়েক ডজন নেতা ভোটের আগেই কংগ্রেসে যোগ দিতে পারে। বিরোধী দল থেকে একে একে কংগ্রেসে যোগদান ফের গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির ফেরার বার্তা দিচ্ছে কর্নাটকে।












Click it and Unblock the Notifications