কেন্দ্রের নির্দেশ মানা সম্ভব নয়, মায়ানমারের শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে মোদীকে চিঠি মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর
‘মানবিক হন, শরণার্থীদের আশ্রয় দিন’, মায়ানমার সঙ্কট নিয়ে মোদীকে চিঠি মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর
মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে শরণার্থী আগমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে কেন্দ্র। এমনকী ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রবেশ করা শরণার্থীদের দ্রুত মায়ানমারে পাঠানোর জন্য মিজোরাম সরকারকে বিশেষ নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে। এবার সেই চাপানৌতরের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী।

মানবিকতার কারণেই কেন্দ্রের এই নির্দেশ মানা সম্ভব নয়
সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে মানবিকতার কারণেই কেন্দ্রের এই নির্দেশ মানা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথঙ্গা। এমনকী এইক্ষেত্রে তিনি মোদীর হস্তক্ষেপেরও দাবি করেছেন। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রবেশ করা পুলিশ, সাধারণ মানুষ সহ মায়ানমারের শতাধিক শরণার্থীর আশ্রয়ের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা করারও অনুরোধ জানান তিনি।

১০ মার্চের চিঠি নিয়েই বাড়ছে চাপ
এদিকে গত ১০ মার্চ কেন্দ্রের লেখা চিঠিতে মায়ানমার সঙ্কটের কারণে কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশ, শরণার্থী সমস্যার বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে কোনোরকম সম্ভাব্য আগমন রোধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বারাষ্ট্র দফতরের তরফে। নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্য সচিবদের এবং অসম রাইফেলসের ডাইরেক্টর জেনারেলকে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।

শুরু তীব্র চাপানৌতর
এদিকে এই চিঠি পাওয়ার পরেই তীব্র চাপানৌতর শুরু হয় মিজোরামের সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে। কেন্দ্রের এই নির্দেশ যে জোরামথঙ্গা মানবেন না তা নিয়েও শুরু হয় জল্পনা। এদিকে মিজোরামের একটা বড় অংশের মানুষ আবার মায়ানমারের চিন সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের সাথে জাতিগত সম্পর্ক ভাগ করে। মূলত সেই মানবিকতার জায়গা থেকেই বর্তমানে তাদের দুর্দশার প্রতি উদাসীন থাকা সম্ভব না বলে মোদীকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী।

চিঠিতে ঠিক কী লিখলেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী ?
মোদীকে লেখা চিঠিতে জোরামথঙ্গা লিখছেন, " সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই তুমুল অস্থিরতা শুরু হয়েছে গোটা মায়ানমারেই। নিরিহ মানুষদের ধরে ধরে বন্দি করে রাখছে সেনা, মেরে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু এই সেনাই একদা তাদের অভিভাবক, রক্ষা কর্তা হিসাবে কাজ করেছে। এমতাবস্থায় প্রত্যেক দিনই মায়ানমারের ভীত, সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ সীমানে পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এই কঠিন সময়ে আমাদের উচিত তাদের পাশে থাকা।"












Click it and Unblock the Notifications