'মিন্টা দেবী'-র ছবি দেওয়া টি-শার্ট পরে SIR এর প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলি, কী বলল নির্বাচন কমিশন
এদিন মঙ্গলবার বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এক অভিনব প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। বিহারে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা 'মিন্টা দেবী' ও তাঁর ছবি আঁকা টি-শার্ট পরে সংসদ ভবনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। টি-শার্টের পেছনে লেখা ছিল '১২৪ নট আউট'।
প্রতিবাদকারী সংসদ সদস্যরা দাবি করেছেন, মিন্টা দেবী নামে এক '১২৪ বছর বয়সী প্রথম ভোটার'-এর নাম বিহারের ভোটার তালিকায় পাওয়া গিয়েছে। তাঁরা নির্বাচনী রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিও জানান।

এই বিষয়ে কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, "ভোট চোর - গদি ছাড়। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ভোট চুরি করছে, জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। এদিন ইন্ডি জোটের সংসদ সদস্যরা ভোট চুরি এবং SIR-এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। ভোট চুরি দেশের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ - এটি বরদাস্ত করা হবে না।"
মিন্টা দেবী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, "এরকম অসংখ্য ঘটনা আছে। পিকচার আভি বাকি হ্যায়।" কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নিজেও প্রতিবাদী টি-শার্ট পরেছিলেন। তিনি বলেন, এমন আরও অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে ঠিকানা এবং আত্মীয়দের নাম ইত্যাদি সবই জাল।
জানা গিয়েছে, সিয়ানের দারুন্দা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত মিন্টা দেবীর বয়স ১২৪ বছর নয়, বরং ৩৫ বছর। একজন নির্বাচনী আধিকারিক জানান, তাঁর আবেদনপত্রে ত্রুটির কারণে বয়সের ভুল হয়েছিল।
বিরোধী সংসদ সদস্যরা বিহারের নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ করছেন। তাঁরা এই প্রক্রিয়াকে 'ভোট চুরি' আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপটি এই বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিহারে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
তবে কমিশন এই প্রক্রিয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে যে, ২০০৪ সাল থেকে SIR পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় অনেক 'অযোগ্য ব্যক্তি' ভোটার কার্ড সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন এবং অনেক ব্যক্তি জ্ঞানত অথবা অজ্ঞানত বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার একাধিক ভোটার কার্ড ধরে রেখেছেন।
নির্বাচন কমিশন সোমবার জানিয়েছে যে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন বা বাতিলের জন্য কোনও রাজনৈতিক দল তাদের কাছে যোগাযোগ করেনি। কমিশন আরও জানায়, খসড়া তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যক্তিগত ভোটারদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৫৭০টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। খসড়া তালিকা ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণ ও দলগুলির দাবি ও আপত্তি জানানোর জন্য খোলা থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications