সংখ্যালঘুদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে জেডিএসে, বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতেই পতনের সূত্রপাত

জেডিএস এনডিএ-তে যোগ দিতেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে সংখ্যালঘু বিদ্রোহ। জেডিএের সংখ্যালঘু নেতারা এক এক করে দল ছাড়ছেন। রবিবারই অনেকে পদত্যাগ করেছেন। সেই সংখ্যা আরও বাড়ছে। রবিবার সংখ্যালঘু নেতাদের বৈঠকে আরও নেতারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোয় বিদ্রোহী সংখ্যালঘু নেতারা জেডিএস থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামীর ছেলে নিখিল কুমারস্বামী বিজেপি নেতা বিএস ইয়েদুরপ্পার সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নিয়েছেন সম্প্রতি। তারপর থেকেই জেডিএসের সংখ্যালঘু সেলের কিছু নেতা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

সংখ্যালঘুদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে জেডিএসে

রবিবার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক, শীঘ্রই গণ-পদত্যাগ হতে চলেছে। জেডিএস সহ-সভাপতি সৈয়দ শফিউল্লা সাহেব তাঁর পদত্যাগপত্র জেডিএস সভাপতি সিএম ইব্রাহিমের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি পার্টি সুপ্রিমো এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার কাছে তা পাঠান।

জেডিএস মুখপাত্র ইউটি ফারজানা আশরাফও দলের সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন। রবিবার সংখ্যালঘু নেতাদের বৈঠকে আরও নেতারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ইব্রাহিমও খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেবেন। কয়েক বছর আগে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে জেডিএস-এ যোগ দিয়েছিলেন। আবার তিনি কংগ্রেসে ফিরতে পারেন বলেই জল্পনা।

বিজেপি যখন কর্নাটকে ক্ষমতায় ছিল, তখন জেডিএস হিজাব এবং হালাল ইস্যুতে তাদের বিরোধিতা করেছিল। এখন তাদেরই সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে, যা মুসলিম নেতারা মানতে পারছেন না। এর ফলেই কুমারস্বামীর দলে ভাঙন তীব্রতর হয়েছে। একে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছে, তারপর বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানো ভালো চোখে নিচ্ছে না কেউ।

একদিন আগেই প্রাক্তন মন্ত্রী এনএম নবি, প্রাক্তন নয়াদিল্লি প্রতিনিধি মহিদ আলতাফ, যুব শাখার প্রধান এনএম নূর, রাজ্য সহ-সভাপতি সৈয়দ শফিউল্লা, প্রাক্তন সংখ্যালঘু শাখার প্রধান নাসির হুসেন ওস্তাদ পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। বিজেপির সঙ্গে জোট গঠনের পরেই মুসলিম নেতাদের জেডিএস ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।

শুধু মুসলিম নেতারা নন, কিছু ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দুও হতাশ জেডিএসের এই সিদ্ধান্তে। লোকসভা নির্বাচনের আগে জেডিএস বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটে অর্থাৎ এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার একদিন পর থেকেই দলে বিদ্রোহ শুরু হয়।

গত দিনেই এইচ ডি কুমারস্বামীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন শফিউল্লা। তিনি পদত্যাগ পত্রে লিখেছেন, "আমি দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং সমাজ ও সম্প্রদায়ের সেবা করার জন্য পার্টির সেবা করেছি। আমাদের দল ধর্মনিরপেক্ষতার উপর দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু তা বর্তমানে ক্ষুণ্ণ।

তিনি লেখেন, এর আগেও রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল জেডিএস। সেইসময় বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সময়ও আমি দলের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যেহেতু দলের সিনিয়র নেতারা এখন বিজেপির সাথে হাত মেলানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাই পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।

তাঁর কথায়, মুসলিম নেতারা বিরক্ত। আমরা দলের সিদ্ধান্তে খুশি নই, কারণ রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন বিজেপি অনেক সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি করেছিল। আমরা তখন তার প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তো সেই ইস্যুগুলিতে সমর্থন জানাতে পারি না!

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+