ফের নিশানায় কাশ্মীরের পণ্ডিতরা! ৫০ ওপরে নাম প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি জঙ্গিদের
ফের নিশানায় কাশ্মীরের পণ্ডিতরা! ৫০ ওপরে নাম প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি জঙ্গিদের
পঞ্চাশের বেশি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নাম প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি জঙ্গিদের। এই সব কাশ্মীরি পণ্ডিতরা সবাই সরকারি কর্মী। জঙ্গিরা তাঁদেরই হুঁশিয়ারি দিয়ে অনলাইনে নাম প্রকাশ করেছে। অল মাইগ্রান্ট ডিসপ্লেসড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন কাশ্মীরের তরফে জানানো হয়েছে, জঙ্গিদের হুঁশিয়ারির পরে ভয় গ্রাস করেছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের।

পিএম প্যাকেজের অধীনে নিয়োগ
যাঁদের নাম প্রকাশ করেছে জঙ্গিরা, তাঁদের নিযুক্ত করা হয়েছে পিএম প্যাকেজের অধীনে। এইসব কাশ্মীরি পণ্ডিতরা পরিযায়ী। অল মাইগ্রান্ট ডিসপ্লেসড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন কাশ্মীরের নেতা রুবন সাপ্রু বিষয়টিকে উদ্বেগের বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন সরকারের তদন্ত করে দেখা উচিত কীভাবে জঙ্গিরা উপত্যকায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সম্পর্কে তথ্য পাচ্ছে। তিনি বলেছেন, তালিকায় নাম থাকা কর্মীরা আতঙ্কিত। সবাই ভয়ে রয়েছেন, ভয় তাঁদেরকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অনলাইনে সক্রিয় লস্কর জঙ্গিরা
জঙ্গিরা কালো তালিকাভুক্ত kashmirfight.com-এ কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নাম প্রকাশ করে। সেখানে ৫৬ জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের পোস্টিং-সহ নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি ব্লগটি লস্কর জঙ্গিরা চালাচ্ছে।

ইউপিএ জমানার প্যাকেজে নিয়োগ
২০১০-এ দেশে দ্বিতীয় ইউপিএ জমানা পিএম জব প্যাকেজের অধীনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিতকে কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন অংশে নিয়োগ করা হয়েছে। গত ১২ মে থেকে তারা কর্মস্থলে না গিয়ে ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন। ওই সময়ে কাশ্মীরি পণ্ডিত রাহুল ভাটকে মধ্য কাশ্মীরের বুদগাঁও জেলার চাদুরায় সহশিল অফিসের ভিতরে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। তারপর থেকে আরও দুই কাশ্মীরি পণ্ডিত জঙ্গি হামলায় মারা গিয়েছেন।
গত অগাস্টে ছোটিগামের বাসিন্দা সুনীল কুমার ও তাঁর ভাই পিন্টু কুমারের ওপরে হামলা চালায় জঙ্গিরা। গুলিতে মৃত্যু হয় পিন্টু কুমারের। এরপর অক্টোবরেও এক পণ্ডিতের মৃত্যু হয় জঙ্গি হামলায়।

প্রশাসনের ওপরে বিশ্বাস ভেঙেছে পণ্ডিতদের
জঙ্গিরা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের টার্গেট করেছে। বলা যেতে পারে টার্গেট কিলিং-এ মত্ত জঙ্গিরা। সরকার বারে বারে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পরেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যার জেরে অনন্তনাগের মতো কোনও কোনও জায়গা থেকে প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি পণ্ডিত পরিযায়ী হয়েছেন। মোদী সরকারের সামনে তাঁদেরকে কাশ্মীর থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি তুললেও, সেই দাবি মানা হয়নি। আর টার্গেট কিলিং শুরু হওয়ার পরেই অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন জম্মুতে গিয়ে। কাশ্মীরের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা। উল্লেখ করা প্রয়োজন ১৯৯০ থেকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিশানা-হত্যা শুরু করে জঙ্গিরা।












Click it and Unblock the Notifications