বাচ্চাকে ছুড়ছেন ট্রাকের মাথায়! বাড়ি ফিরতে মরিয়া পরিযায়ী শ্রমিকের দুর্ভোগের কাহিনী
প্রায় ৫০ দিন পর এদিন থেকে চালু হয়েছে রেল পরিষেবা। দিল্লি থেকে সীমিত কয়েকটি গন্তব্যে যাবে সেগুলি। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই আটকে রয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। খাবার নেই। বাড়ি ফেরার জন্য কোনও উপায়ও চোখে পড়ছে না। এরই মধ্যে মরিয়া হয়ে মালবাহী ট্রাকের ছাদে লুকিয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা। শেষ সম্বলটুকু গাড়ির চালককে দিয়ে দিচ্ছেন এই করতে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের আপ্রাণ চেষ্টা
সোমবার একটি গণমাধ্যমের ক্যামেরাবন্দি করা এক ভিডিওতে দেখা যায় এক পরিযায়ী শ্রমিক আপ্রাণ চেষ্টা করছেন ট্রাকে ওঠার। তাঁর কোলে এক ছোট্ট শিশু। বাধ হয়েই সেই শিশুকে ট্রাকের ছাদে ছুড়ে নিজে দড়ি বেয়ে উঠতে থাকলেন ট্রাকের ছাদে। কী করবেন! বাড়ি ফিরতে হবে যেকোনও প্রকারে।

সারা দেশে দিশাহীন শ্রমিকরা
এই চিত্রটি ছিল ছত্তিসগড়ে। পরে সেই শ্রমিককে জিজ্ঞাসা করে জানা যায় সে ঝাড়খণ্ডে ফিরতে চায় তাঁর গ্রামে। কিন্তু সেখানে ফেরার আর কোনও উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে প্রাণের ঝুঁকি সত্ত্বেও এই পথ অবল্মব্ন করচতে সে বাধ্য হয়েছে। তবে এই চিত্র শুধু ছত্তিসগড় নয়, সারা দেশেরই।

লকডাউনে বন্দি শ্রমিকরা
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে সেই ২৫ মার্চ থেকে চলছে লকডাউন। এর জেরে কাজ হারিয়েছেন কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। এই অবস্থায় ভিনরাজ্যে তাঁরা থাকতে চাইছেন না। বাড়ির টানে ফিরতে কয়েক হাজার কিলোমিটার হেঁটেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই বাড়ি ফেরার আগেই মারা যাচ্ছেন।

রেল পরিষেবা পাচ্ছেন না অধিকাংশ শ্রমিক
ট্রেন পরিষেবা চালু হলেও সর্বস্ব হারানো পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে রেলে যাত্রা করার টাকা নেই। অনলাইনে টিকিট বুক করার উপায়ও নেই তাঁদের কাছে। প্রয়োজনী কাগজ পত্রও নেই অনেকের কাছেই। শ্রমিক স্পেশালে তাই স্থান মেলেনি অধিকাংশেরই। এই অবস্থায় এই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?

বাড়ি ফিরতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন শ্রমিকরা
কয়েকদিন আগেই ট্রাক উল্টে বাড়ি ফিরতে চাওয়া ১৬ জন শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেয়। অপর একটি ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের মারা যান ৬ জন। সোমবার রাতেও তিনটি পৃথক ঘটনায় মা-মেয়ে সমেত তিনজন পরিযায়ী শ্রমিক প্রাণ হারান রাস্তায়। তাঁরা হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে। সেই বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছাটাই কাল হয়ে দাঁড়াল তাঁদের জন্য।












Click it and Unblock the Notifications