কৃষক আন্দোলনের মাঝেই নয়া মাস্টারস্ট্রোক কেন্দ্রের, বর্ষার মুখে খরিফ ফসলে চড়চড়িয়ে বাড়ছে এমএসপি
কৃষক আন্দোলনের মাঝেই নয়া মাস্টারস্ট্রোক কেন্দ্রের
নয়া কৃষি আইন বাতিলের দাবির পাশাপাশি ২২টি কৃষি পণ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের দাবিতে ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লি সীমান্তে আন্দোলন চালাচ্ছেন প্রতিবাদী কৃষকের দল। এখনও মেলেনি বিশেষ রফাসূত্র। এবার তার মাঝেই একাধিক খরিফ ফসলে ৫০ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশ ন্যূনতম সহায়ক মূ্ল্য বা এমএসপি বৃদ্ধি করল কেন্দ্র। এদিকে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বুধবারই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধীর ধীরে পা ফেলতে শুরু করেছে বর্ষা। আর এই সময়ের বৃষ্টিপাত কৃষকদের উন্নত গুনমানের ফসল উৎপাদনের জন্য গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যেই বর্ষার প্রবেশে এ সময়ে কৃষকরা খরিফ ফসল বপনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

আন্দোলনের মাঝেই কেন্দ্রের নয়া মাস্টারস্ট্রোক
কৃষকরা বিশ্বাস করেন যে বর্ষার বৃষ্টিতে খরিফ ফসলের ফলন বাড়ে। বর্তমানে দেশের বেশীরভাগ কৃষক জমি প্রস্তুত করে, ধানের বীজতলা তৈরি করে চাষের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। যদিও পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এই সকল স্থানে দক্ষিণ পশ্চিম বর্ষা স্বাভাবিক সময়ে প্রবেশ করলেও অনেক রাজ্যে এই বছর বর্ষার আগমন দেরীতে হবে বলে জানা গিয়েছে। এমতাবস্থায় খরিফ ফসলে ৫০ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশ এমএসপি বৃদ্ধিকে কেন্দ্রের মাস্টারস্ট্রোক হিসাবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

গত বছর থেকেই বাড়তে থাকে উদ্বেগ
এদিকে এই নূন্যতম সহায়ক মূল্যের হাত ধরেই কৃষি পণ্যে বাঁধা দাম পান কৃষকেরা। কিন্তু বর্তমানে এই রাস্তাতেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কেন্দ্রের নয়া কৃষিবিল। উল্টো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে চাল, ডাল, পেঁয়াজ সহ আরও একাধিক পণ্যকে বাদ দেওয়া হয়েছে নতুন কৃষি বিলে। তারজেরেই গত বছর থেকে বাড়তে থাকে উদ্বেগ।

এসএসপি নিয়ে কেন বাড়ছিল উদ্বেগ ?
বিরোধী শিবিরের একটা বড় অংশ দাবি করেন এই নতুন বিলের হাত ধরে এমএসপি ও সরকারি মান্ডি অবলুপ্তির চেষ্টা করছে সরকার। যার ফলে অচিরে কালোবাজারি বাড়ার সাথে সাথে একাধিক পণ্যে কৃষকেরা যে নূন্যতম সহায়ক মূল্যও পাবেন না তা বলাই বাহুল্য। যদিও তারপরেও সরকার কৃষকদের আশ্বস্ত করে জানায় উদ্বেগের কোনও কারণ নেই, এসএসপি থাকছে। কিন্তপ গোটা দেশজুড়ে এখনও কৃষি আইন রূপায়ন প্রাথমিক স্তরে আটকে থাকার কারণেই দোলচলের বাতাবরণ অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় খরিফ ফসলে এসএসপি বৃদ্ধিতে ঘুরিয়ে কৃষকদের মন জয়ের চেষ্টা করছে সরকার। এমনটাই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।












Click it and Unblock the Notifications