মধ্যরাতে ছুরি হাতে তাণ্ডব, বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর কি তবে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল CISF এর তৎপরতায়?
বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাত তখন প্রায় বারোটা। টার্মিনাল ১ এর সামনে ট্যাক্সি লাইনে হঠাৎই অশান্তির সুর, আর তার কয়েক মুহূর্ত পরেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক! এক যুবক হাত উঁচু করে ছুরি নিয়ে তেড়ে যাচ্ছেন ট্যাক্সিচালকদের দিকে। যাত্রী ও কর্মীদের ভিড়ে পরিস্থিতি যতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত, শেষমেশ তা হতে দিল না CISF এর তৎপর দল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর কিছুক্ষণ আগে দুই থেকে তিন ট্যাক্সিচালকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন ওই যুবক। উত্তেজনার জেরে হঠাৎই কোথা থেকে একটি লম্বা ধাতব ছুরি বার করে চালকদের দিকে দৌড়ে যান তিনি। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। কিন্তু বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই পরিস্থিতি সামলে নেন ASI সুনীল কুমার ও তাঁর টিম।

চোখের পলকে ছুটে গিয়ে হামলাকারীকে ঘিরে ফেলেন CISF জওয়ানরা। প্রশিক্ষিত দক্ষতায় তাঁরা মাটিতে ফেলে কাবু করেন ওই যুবককে পাশাপাশি উদ্ধার করেন হাতের ছুরি। পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। থানার এক সিনিয়র অফিসারের কথায়, "অস্ত্র থাকার কারণে আর্মস অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালত অভিযুক্তকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।"
ঘটনার পর CISF তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিও প্রকাশ করে গর্বের সঙ্গে জানায় সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। মধ্যরাত্রির ভিড়ে যাত্রীদের প্রাণহানি বা বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। কিন্তু দ্রুত পদক্ষেপে সব বিপদ এড়ানো যায়।
ASI সুনীল কুমার ও তাঁর দলের প্রতি অভিনন্দনের ঢল নেমেছে নেটমাধ্যমেও। বহু যাত্রী মন্তব্য করেছেন "এত চাপের মুহূর্তে CISF এর শান্ত মাথা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত না থাকলে পরিস্থিতি ভয়ানক দিকে গড়াত।"
এই ঘটনাই ফের প্রমাণ করল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তির ওপর নয় প্রশিক্ষিত বাহিনীর প্রস্তুতি ও সাহসিকতার ওপরও দাঁড়িয়ে।
আর সোমবার রাতের কেম্পেগৌড়া বিমানবন্দর সেই প্রস্তুতিরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।












Click it and Unblock the Notifications