বিনিয়োগ জালিয়াতি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের দেশজোড়া অভিযানে বিরাট সাফল্য, ভেঙে চুরমার স্ক্যামারদের নেটওয়ার্ক
ভারতের বিভিন্ন বড় শহরে বিনিয়োগের নামে প্রতারণার ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) সাইবার প্রতারণা চক্রগুলির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে এক ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। সম্প্রতি দিল্লি ও মুম্বইয়ের কিছু ঘটনা এই জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। ভুয়ো ট্রেডিং অ্যাপ, 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' কৌশল এবং মিথ্যা লাভের হিসেব দেখিয়ে প্রতারকরা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
দিল্লিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক একটি অনলাইন বিনিয়োগ প্রকল্পে ৩১ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। মুম্বইয়ে দুটি পৃথক ঘটনায় মহিলাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ২০ কোটি এবং ৭.৮৭ কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। পুলিশ কৃষ্ণ কুমার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়ো গ্রুপ তৈরি করে দ্রুত লাভের লোভ দেখিয়ে ৬.০৩ কোটি টাকার প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিলেন।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড-মুম্বই ভিত্তিক একটি সিন্ডিকেট দেশজুড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি 'মিউল অ্যাকাউন্ট' (অন্যের নামে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট) ব্যবহার করে আসছে। শুধু ১৪৫টি শেল কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩,২০০ কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছে এবং প্রতারণা সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C), যা রাজ্য পুলিশকে ফরেনসিক সরঞ্জাম এবং তদন্তে সহায়তা করে। এর ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে ১.৪৩ লক্ষেরও বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ১৯ কোটি ব্যবহারকারীর কাছে পরিষেবা পৌঁছেছে।
I4C-এর সুপারিশে ৮০০টির বেশি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ৩,২০০টি ওয়েবসাইট, ৬.৬৯ লক্ষ সিম কার্ড এবং ১.৩২ লক্ষ IMEI নম্বর নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। এছাড়াও, আরবিআই এবং ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে কাজ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বহু 'মিউল অ্যাকাউন্ট' চিহ্নিত করে সেগুলিকে ফ্রিজ করেছে, যা প্রতারণার আর্থিক পথ বন্ধ করতে সাহায্য করছে।
নাগরিকদের সচেতন করতে ১৯৩০ হেল্পলাইন, 'সাইবার দোস্ত' সচেতনতা অভিযান, কলার টিউন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। 'সাইট্রেন' কর্মসূচির অধীনে ১ লক্ষেরও বেশি পুলিশ কর্মীকে সাইবার ফরেনসিক এবং জালিয়াতি তদন্তে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 'মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ' (CCPWC) প্রকল্পের মাধ্যমে অনলাইন শোষণ ও প্রতারণা থেকে দুর্বলদের রক্ষা করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যদিও প্রতারকরা নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাইবার ঢালও সমানভাবে অভিযোজিত হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি, সমন্বিত পুলিশি ব্যবস্থা এবং ব্যাপক সচেতনতার মাধ্যমে ভারত তার নাগরিকদের ডিজিটাল ও আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এক নির্ণায়ক যুদ্ধে নেমেছে।
সাইবার সংক্রান্ত যেকোনও উদ্বেগের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এবং আপনার সুরক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সর্বশেষ সতর্কতা, টিপস এবং সচেতনতামূলক প্রচারের জন্য CyberDost-কে YouTube, Instagram, Facebook, X, WhatsApp এবং Dailyhunt সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনুসরণ করুন।
বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন, সতর্ক থাকুন এবং CyberDost এর সঙ্গে থেকে অনলাইনে সুরক্ষিত থাকুন।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications