বহু শ্রমিক আটকে বিভিন্ন রাজ্যে, উপার্জনের নতুন দিশা দেখাচ্ছে রাজস্থানের এমজিএনআরইজিএ
বহু শ্রমিক আটকে বিভিন্ন রাজ্যে, উপার্জনের নতুন দিশা দেখাচ্ছে রাজস্থানের এমজিএনআরইজিএ
করোনা সংক্রমণের জেরে দেশজুড়ে লকডাউনের সবচেয়ে বাজে প্রভাব পড়েছে দিন মজুরদের ওপর। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিকরা আটকে রয়েছেন। তেমনি মহারাষ্ট্রে আটকে রয়েছেন ৪১ বছরের সারদা দেবীর স্বামী। তিনি সেখানে শ্রমিকের কাজ করেন, কিন্তু সারদা দেবী বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর স্বামীর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তিনি ২৩ এপ্রিল নুন্যতম মজুরি পাওয়ার আশায় নাম লিখিয়েছেন রাজস্থানের মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রাম্য কর্মসংস্থান গ্যারন্টি আইনে (এমজিএনআরইজিএ)।

উপার্জন করছেন মহিলারা
ভিলওয়ারা জেলার দৌলতগড় গ্রামের বাসিন্দা সারদা বলেন, ‘অর্থের অভাবে পরিবারের আটজন সদস্যের পেট চালানো খুবই কঠিন ব্যাপার হয়ে পড়ে। এর আগে আমার স্বামী যিনি নাগপুরের একটি নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত, তিনি প্রত্যেক ১৫ দিন অন্তর টাকা পাঠাতেন। কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি আমাদের অর্থ পাঠাতে পারছেন না কারণ তিনি নিজেই নিয়োগকারীর কাছ থেকে টাকা পাননি এবং তাঁর কাছেও অর্থের যোগান কম রয়েছে।' চার সন্তানের মা সারদা এমজিএনআরইজিএ-তে কর্মী হিসাবে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসীরা আমাদের পরামর্শ দিলেন যে আমি যাতে জব কার্ডের জন্য আবেদন করি এবং কাজের জন্য অনুরোধ জানাই। এক সপ্তাহের মধ্যেই আমি কার্ড ও কাজ দু'টোই পেয়ে যাই।' সারদা জানিয়েছেন যে তাঁর বড় ছেলে কাজ করতে চেয়েছিল কিন্তু সারদা চায় তাঁর চার সন্তান পড়াশোনা করুক ও ও বৃদ্ধ শ্বশুড়-শাশুড়ি বিশ্রাম নিক। সারদা রাস্তা ঝাড় দেওয়ার ও স্থানীয় জলাধার পরিস্কারের কাজ পেয়েছেন। সারদা প্রতিদিন সকাল ৯টার সময় বের হন ও দুপুর ১টায় ফিরে আসেন।

রাজস্থানের এক লক্ষ জন এমজিএনআরইজিএ–এর অধীনে কাজ করছে
সারদার মতো রাজস্থানে এক লক্ষ নতুন জব কার্ডের অধিকারিরা রয়েছেন যাঁরা নিজেদের পরিবারের আর্থিক সহায়তা তরার জন্য এমজিএনআরইজিএ-এর অধীনস্ত কাজ করেন। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কোভিড-১৯-এর জন্য ২৪ মার্চ থেকে চলা লকডাউনের কারণে জীবিকা হারিয়েছেন। তবে এই সংখ্যা বেড়ে লক্ষে পৌঁছাবে কারণ অন্যান্য রাজ্যে চাকরি হারিয়ে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক এখনও বাড়ি ফিরছেন।

মজুরি ও কাজের সময় সংশোধন
সরকারী ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের আওতায় মজুরি ও কাজের সময় সংশোধন করা হয়েছে। রাজস্থানে, অদক্ষ শ্রমিকদের প্রতিদিন আগে ১৯৯ টাকার বিনিময়ে ২২০ টাকা দেওয়া হয়। দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি ২১৩ থেকে বাড়িয়ে ২৩৫ টাকা করা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুসারে সারদা প্রতিদিন ২২০ টাকা পারিশ্রমিক পাবে, যা লকডাউনের আগে তার স্বামী যা উপার্জন করত তার ঠিক অর্ধেক।












Click it and Unblock the Notifications