ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ৬ তারিখ হোক, চাইছে কংগ্রেস, বিরোধীদের মুখ হিসেবে রাহুল সমর্থন পাবে? প্রশ্ন উঠছে
তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাকফুটে কংগ্রেস। নরেন্দ্র মোদী হওয়া কার্যত বইছে হিন্দি বলয়ে। ইন্ডিয়া জোটের ক্ষেত্রেও এই নির্বাচনের ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে। এমন ইঙ্গিত করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আগামী লোকসভায় বিরোধী জোটের মুখ কে হবেন? তাই নিয়ে চর্চাও শুরু হয়ে গিয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে।
ইন্ডিয়া জোট তৈরি হওয়ার পর থেকেই অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন নেতৃত্বরা। প্রধানমন্ত্রী মুখ সামনে রেখে কোনও বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়বে না। তবে এবার শুরুতে কংগ্রেস কিছুটা হলেও মাইলেজ পেয়েছিল। আগাগোড়া, কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল তাদের পক্ষে যায়। আর সেখান থেকেই বিরোধী জোটের ক্ষেত্রে অক্সিজেন পেয়েছিল হাত।

রাহুল গান্ধী ভারত জোড়ো যাত্রা করেছিলেন। তারই ফল মানুষ কর্নাটকের ভোটে দিয়েছে। বিজেপি বিরোধিতা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে। রাহুল গান্ধী নেতৃত্ব হিসেবে আরও উপরের দিকে উঠে এসেছেন। এই দাবি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে করা হচ্ছিল। এবারের নির্বাচনেও রাহুল গান্ধী ফ্যাক্টর রয়েছে। এমন মনে করেছিলেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
কিন্তু সমস্ত অঙ্ক উল্টে গিয়েছে। রাজস্থান, ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশে বিপুল হার কংগ্রেসের। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তিন রাজ্যের সরকার গঠন করবে। কেবল তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস সরকার গঠন করবে। কিন্তু এরপর জোটের ভাগ্য কী? রাহুল গান্ধী কি লাইম লাইটে থাকবেন? এই প্রশ্ন উত্তর শুরু করেছে।
ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তরেও প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে জোটসঙ্গীরা নির্বাচনে লড়ুক। এমন দাবি করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কংগ্রেসের জমিদারি ভাব রয়েছে। শোনা গিয়েছে কুণালের কথায়। অন্যান্য জোট সঙ্গীরা এরপর কী সিদ্ধান্ত নেন। সেদিকেও নজর থাকবে।
লোকসভা ভোটের জন্য আর হাতেগোনা কয়েক মাস বাকি। তার মধ্যেই গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে বিজেপি বিরোধী নেতৃত্বকে একজোট করতে হবে। জোটের ফায়দা তুলতে গেলে কী কোনও নির্দিষ্ট মুখ প্রয়োজন? এই প্রশ্ন উঠছে। রাহুল না কী মমতা? এই প্রশ্ন সামনে আসছে।
কংগ্রেস চাইছে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক আগামী ৬ ডিসেম্বর হোক। দিল্লিতে এই বৈঠক করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খার্গে এই প্রস্তাব করেছেন। তিনি জোট নেতৃত্বদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে শুরু করেছেন বলে খবর। কিন্তু ওই দিন বৈঠক কি সম্ভব? তাই নিয়ে এখনও কোনও স্থির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৬ তারিখ বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল। সেই দিনেই ওই বৈঠক করতে আগ্রহী কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা। কিন্তু বৈঠক হলেও নেতৃত্বের মুখ নিয়ে কী কথা হবে? কোন পথে এগোবে ইন্ডিয়া জোট? মোদী বিরোধী হাওয়া হিন্দি বলয়ে কাজ করেনি। একথা পরিষ্কার। তাহলে কাকে এবার সামনে রাখা হবে? প্রশ্ন থাকছেই।












Click it and Unblock the Notifications