দিল্লিতে ফাঁস অনলাইন প্রতারণা, দুবাই থেকে চক্র চালাচ্ছে মাস্টারমাইন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
দিল্লিতে ফাঁস অনলাইন প্রতারণা, দুবাই থেকে চক্র চালাচ্ছে মাস্টারমাইন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
সহজে অর্থ উপার্জন করার রাস্তা হল মানুষকে প্রতারিত করা। আর এখন সেই সহজ পন্থাকে অনেকেই নিজের পেশা হিসাবে নিচ্ছে, এমনকী অনেক শিক্ষিত মানুষও মোটা টাকা আয়ের জন্য এই রাস্তায় হাঁটছে। সম্প্রতি উত্তর পশ্চিম দিল্লির সাইবার সেল এরকমই এক অনলাইন প্রতারণা চক্র ফাঁস করল। যেখানে মানুষকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রতারিত করা হতো। এই ঘটনায় দুবাইতে থাকা মাস্টারমাইন্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এক ব্যাঙ্ক কর্মীও।

দুবাই থেকে চলছে প্রতারণা চক্র
এই চক্রের উদ্দেশ্য ছিল টেলিগ্রামের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সস্তার মোবাইল সেট দেখানো এবং তাঁদের কাছ থেকে পেটিএম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা নেওয়া। ব্যবহারকারী যখন তাদের পেটিএম অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিত, তখন প্রতারকরা তাঁকে ব্লক করে দিয়ে তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর অভিযুক্তরা ওই টাকা দিল্লির বিকাশপুরিতে বসবাসকারী তাদের ভাই অজয় কুমার মৌর্যের কাছে পাঠিয়ে দেয়, যাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

মোবাইল ফোনের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন প্রতারিতদের মধ্যে একজন মৌর্য এনক্লেভে অনলাইনে বিশদে জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীনি জানিয়েছেন যে ওই প্রতারক চক্র তাঁকে একটি দামি মোবাইল ফোন দেখায় টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং তাঁকে ১৭ হাজার টাকা পেটিএম অ্যাকাউন্ট নম্বরে স্থানান্তর করে দিতে বলে। কিন্তু এরপর যখন অভিযোগকারীনি হাতে কোনও মোবাইল ফোন পান না, তিনি তখন অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন কিন্তু তাঁর নম্বর ততক্ষণে ব্লক করে দিয়েছে অভিযুক্তরা।

কেওয়াইসি তথ্যের মাধ্যমে গ্রেফতার অভিযুক্ত
তদন্তের সময় পুলিশ পেটিএম অ্যাকাউন্টের সঙ্গে দেওয়া কেওয়াইসি তথ্যের মাধ্যমে বিকাশপুরির বাসিন্দা অভিযুক্ত অজয় কুমার মৌর্যের কাছে পৌঁছায়। উত্তর পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি বিজয়ন্ত আর্য বলেন, ‘তদন্ত চলাকালীন, অ্যাকাউন্ট ধারক ২৪ বছরের অজয় কুমার মৌর্য, যে স্থায়ী বাসিন্দা এলাহাবাদের ফুলপুর এলাকার, তাকে গ্রেফতার করে আমাদের টিম এবং তার কাছ থেকে ডেবিট কার্ড উদ্ধার হয়েছে। অভিযুক্ত জেরায় তার অপরাধ স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে সে এই চক্রের এক সদস্য, যার পাণ্ডা রয়েছে দুবাইয়ে এবং সে তার ভাই, পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।'

দুবাইয়ের মাস্টারমাইন্ডের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ
অভিযুক্ত অজয় গুরুগ্রামের এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে চাকরি করে এবং এমবিএ নিয়ে পড়াশোনাও করছে। পুলিশ তদন্তে এও জানতে পারে যে অননুমোদিত কলসেন্টার, স্প্যামার্স ও সাইবার অপরাধ প্রতারকদের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগসূত্র রয়েছে। তদন্তের সময় আরও চার জন একইভাবে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। দুবাইয়ে বসে থাকা মাস্টারমাইন্ডের সাহায্যে অভিযুক্ত এইভাবে বহুজনকে প্রতারিত করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছে।' পুলিশ দুবাইয়ে থাকা অভিযুক্তের ভাইয়ের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করেছে এবং তার বিরুদ্ধে এনবিডব্লিউ পদক্ষেপ নিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications