Manmohan Singh Passes Away: অধ্যাপনাই ছিল ভালোবাসা, তবু নিপুণ হাতে রাজনৈতিক পেশাদারিত্ব সামলেছেন মনমোহন
Manmohan Singh Passes Away: ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত মনমোহন সিং। দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের ভগীরথ (economic policymaking) তাঁর কাজের ছাপ রেখে গিয়েছেন জনসেবা (Serving Public) ও রাজনীতিতেও। মসৃণভাবে শুরু হয়েছিল পথ চলা, এরপর ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতির পটভূমিতে পরিবর্তন এসেছিল তাঁর হাত ধরেই। যে পরিবর্তনে জন্যই প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁকে আজীবন মনে রাখবে।
দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ক্ষমতায় থাকার নিরিখে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মনমোহন সিং। আমজনতার জন্য নীতি নির্ধারণে নিজের শাসনকালে যে যে চ্যালেঞ্জ মনমোহন নিতে পেরেছিলেন, তা খুব কম ভারতীয়ই পেরেছেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতির (Indian Economy) প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদেই থেকেছেন মনমোহন। ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও উল্লেখযোগ্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন মনমোহন।

নিপুণ হাতে রাজনৈতিক পেশাদারিত্ব সামলেছেন মনমোহন। শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর অনবদ্য পারফরমেন্স মুগ্ধ করেছিল অনেককে। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই অর্থনীতির খুঁটিনাটি এমনভাবেই রপ্ত করেছিলেন মনমোহন যে চাকরি তার কার্যত বাঁধাই ছিল। যদিও বড় বড় প্রস্তাব নাকচ করে প্রতিশ্রুতি মতো দেশের হয়ে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে বরিষ্ঠ অধ্যাপক হিসেবেই যোগদান করেছিলেন মনমোহন।
এরপরেও সরকারের তরফে বারবার তাঁকে একাধিক দায়িত্ব অর্পণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি নাকচ করেছিলেন। এরপরই রাষ্ট্রসংঘের তরফে চাকরির প্রস্তাব আসে। সেটিও প্রথমে ফিরিয়ে দেন মনমোহন। পরে ১৯৬৬ সালে যোগ দেন। তবে এথেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল অধ্যাপনা ছিল মনমোহনের ভালোবাসার জায়গা। যা তিনি ছাড়তে পারতেন না। পড়ুয়াদের কাছেও তিনি ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিলেন।
১৯৬০ সালে বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারতীয় প্রতিষ্ঠান তৈরির সময় তার রূপরেথা তৈরির দায়িত্ব এসে পড়ে মনমোহনের কাঁধে। প্রতিষ্ঠানের একাধিক কমিটির সদস্য হিসেবেও তাঁকে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালে অধ্যাপনায় ইতি টানতে হয়েছিল মনমোহনকে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রকের উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মনমোহন সিংকে। এই প্রস্তাবটি অবশ্য ফিরিয়ে দিতে পারেননি তিনি। যদিও সেখানে বেশিদিন কাটাননি মনমোহন। দিল্লি স্কুল অফ ইকোনমিকস থেকে মাত্র দুই বছরের জন্য অব্যাহতি নিয়েছিলেন মনমোহন।
ইন্দিরা গান্ধী ঘোষিত জরুরি অবস্থা চলাকালীন তিন বছর অর্থমন্ত্রকের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা পদ সামলেছেন মনমোহন সিং। জরুরি অবস্থা নিয়ে মনমোহনের দৃষ্টিভঙ্গিই জানান দিয়েছিল তাঁর প্রযুক্তিগত পারদর্শিতার। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় ছিল মনমোহনের। আর্থিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনমোহনের পরামর্শও নিতেন ইন্দিরা। জরুরি অবস্থাকালীন মুদ্রাস্ফিতী নিয়ে সতর্ক করেছিলেন মনমোহন। পরামর্শ মেনে তড়িঘড়ি মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন ইন্দিরাও।
পিভি নরশিমা রাওয়ের সরকারে অর্থমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন। অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব যে তিনি পারদর্শী মনমোহনকে দিতে চান তা আগেই জানিয়েছিলেন রাও। প্রথমে সেই প্রস্তাবে মোটেই গুরুত্ব দেননি মনমোহন সিং। এমনকী মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দিনও রোজকার মতো ইউজিসির অফিসে চলে গিয়েছিলেন তিনি।
ফোন করে সন্ধের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে যোগ দিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী রাও। তড়িঘড়ি বাড়ি গিয়ে তৈরি হয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নেন মনমোহন। বাকিটা সকলের জানা। অর্থনীতির সংজ্ঞা পাল্টে ফেলে ইতিহাস রচনা করেছিলেন মনমোহন সিং।












Click it and Unblock the Notifications