অশান্তি থামছে না মণিপুরে,কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু, সর্বদল বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী

অশান্তি থামা তো দূরের কথা আরও বেড়ে গিয়েছে মণিপুরে। কমপক্ষে ৫০ জন মারা গিয়েছেন মণিপুরে। সেনা- আধা সেনা নামিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এক ঘণ্টার জন্য কার্ফু শিথিল করা হয়েছে চূড়াচাঁদপুরে। ইম্ফলে পড়তে যাওয়া ছাত্ররা ফিরতে শুরু করেছেন আগরতলায়।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে আজ সর্বদল বৈঠক ডেকেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও সেনা বাড়ানো হচ্ছে। এদিকে মেইই সম্প্রদায়ের তপশিলি জাতির তকমা সরিয়ে ফেলতে আদালতে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক।

মণিপুরে অশান্তি


গত ৩ এপ্রিল থেকে অশান্ত হয়ে রয়েছে মণিপুর। একের পর এক বাড়িতে আগুন , গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে চলেছে। মেইই সম্প্রদায়কে তপশিলি জাতির তকমা দেওয়ার কারণেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। প্রতিবাদে নাগা এবং কিকি সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ মিছিল থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। তারপরে একের পর এক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

মণিপুর

পরিস্থিতি সামাল দিতে মণিপুরে প্রথমে ব়্যাফ নামায় পুলিশ। কিন্তু তাতেও থামেনি অশান্তি। একের পর এক জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়ি ঘর। হিংসা সামাল দিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তারপরে সেনা নামানো হয় মণিপুরে। গত পরশু সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোয় অশান্তি থামছে না।

শুক্রবার সকাল থেকে অবশ্য মণিপুরের পরিস্থিতি কিছুটা হলেও শান্ত হয়েছিল। সেনাবাহিনী এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ফ্ল্যাগ মার্চ করে। মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য নিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার আপাতভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে মনে হয়।

কিন্তু শনিবার থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুরের ইম্ফল এবং চূড়াচন্দ্রপুর। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোয় অশান্তি বাড়ছে। এই হিংসার ঘটনায় প্রায় ৯০০০ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। ৭০০০ জনকে সেনাবািহনী নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

শনিবার থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মণিপুরে। কমপক্ষে ৫০ জন মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আতঙ্কে পড়ুয়ারা মণিপুর ছেড়ে পালাচ্ছেন। ইম্ফল থেকে আগরতলায় পালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। ১ ঘণ্টার জন্য চূড়াচন্দ্রপুরে কার্ফু শিথিল করা হয়েছিল। যাতে পড়ুয়ারা বাড়ি ফিরতে পারেন।

মায়ানমার সীমান্তে অশান্তি আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করে চপারে নজরদারি চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। মণিপুরে আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে নাগাল্যান্ড সরকার ২২টি বাসের ব্যবস্থা করেছে। মণিপুরে যাঁরা কর্মসূত্রে গিয়েছেন নাগাল্যান্ড থেকে তাঁদের এবং পড়ুয়াদের এই বাসে করে ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছে নাগাল্যান্ড সরকার।

অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারও মণিপুরে আটকে থাকা পড়ুয়াদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। মণিপুরে পড়তে যাওয়া ছাত্রদের বিশেষ বিমানে আগরতলায় নিয়ে এসেছে ত্রিপুরা সরকার। মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজস্থান সরকারও। সেখানে আটকে থাকা পড়ুয়াদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছেন তিনি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+