ফেসবুকে মমতা বিরোধী মন্তব্য করে গ্রেফতার যুবক, সওয়ালের জন্য মিলল না আইনজীবীও

সম্প্রতি বর্ধমান বিস্ফোরণ কাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পোস্টটি শেয়ার করেছিলেন জনৈক তৃণমূল সমর্থক। সেই পোস্টেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়কে আক্রমণ করে অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করে ধৃত বাপি পাল নামের ওই যুবক। মঙ্গলবার রাতে বাপির ফেসবুক পোস্ট দেখেন তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি মহম্মদ জমিরুল ইসলাম। সেদিন মাঝরাতেই গ্রেফতার করা হয় বাপিকে।
বাপিকে যে দুই ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা জামিনযোগ্য ধারা। কিন্তু আদালকে তাকে পেশ করা হলে তার পক্ষে সওয়াল করতে রাজি হননি কোনও আইনজীবীই। এমনকী তার জামিনেরও আবেদন করা হয়নি। ফলে ১৪ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেও একথা স্বীকার করেছেন যে তিনি যে ভাষায় মন্তব্য করেছেন তা অশালীন। চাকরি হারিয়ে অবসাদের ভুগছিলেন, মাথার ঠিক ছিল না তাই ভুল করে লিখে ফেলেছেন। যদিও এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় বাপি ও বাপির পরিবার এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসাবেই পরিচিত।
মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনা আরও একবার অম্বিকেশ মহাপাত্র, শিলাদিত্য চৌধুরির ঘটনা উস্কে দিল। বিরোধীদের কথায় যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে নিঃসন্দেহে মুখ্যমন্ত্রীর নামে ছাপার অযোগ্য অশ্লীল মন্তব্য করে অন্য়ায় করেছে। কিন্তু পুলিশ এখানে এত তৎপরতা দেখালেও তৃণমূল নেতানেত্রীদের বারবার আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো একাধিক মন্তব্যে কেন তৎপর হয়নি পুলিশ। অনুব্রত মণ্ডল, মণিরুল ইসলাম, তাপস পাল একাধিক বার মাথা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া, ছেলে ঢুকিয়ে রেপ করে দেওয়া,-র মতো ভয়ঙ্কর হুমকি দেওয়ার পরও কেন এতটাই তৎপর হয়ে পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ? তার মানে মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করাতেই এই শাস্তি।
এই প্রথমবার নয় এর আগেও তো যাদবপুরের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রকেও মমতার কৌতুক কার্টুন ইমেলে পাঠানোয় গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর সভায় সারের দাম নিয়ে প্রশ্ন করার তাঁকে মঞ্চ থেকেই মাওবাদী আখ্যা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, পরে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বিরোধীদের মতে বাপি পালের গ্রেফতারের ঘটনা শাসকদলের স্বৈরাচারি মনোভাবেকই আর একটি চরম নিদর্শন তুলে ধরল।












Click it and Unblock the Notifications