উত্তরাখণ্ডের বন্যা দুর্গতদের কাছে এইভাবে ত্রাতার ভূমিকায় উঠে আসেন মমতা রাওয়াত
২০১৩ সালে ভয়াবহ বন্যায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন অংশের জনজীবন। আর্তদের উদ্ধারে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
২০১৩ সালে ভয়াবহ বন্যায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন অংশের জনজীবন। আর্তদের উদ্ধারে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। গারওয়াল হিমালয় অঞ্চলের বহু প্রত্যন্ত জায়গা যেখানে বন্যা বিধ্বস্তদের কাছে ত্রাণ তখনও পৌঁছয়নি, সেসময় পৌঁছে গিয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী এক দুঃসাহসী মেয়ে। মমতা রাওয়াত। যিনি সেসময় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

নেহরু ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং এর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছাত্রী মমতার নিজের বাড়িই ধসে যায় উত্তরাখন্ডের বিধ্বংসী বন্যায়। সেইসময় এনআইএম বা নেহরু ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং -এর তরফে উদ্ধারকাজে অংশ গ্রহণ করা হয়। আর ইন্সিটিটিউটের তরফে আপৎকালে একা লড়ে যান এই যুবতী। নিজের বাড়ি থেকে ইন্সটিটিউটের এক ডাকে বেরিয়ে
এসে, আর্তদের সেবায় নিয়োজিত করেন নিজেকে।
বন্যায় উদ্ধার কাজের সময় এক অচৈতন্য তীর্থযাত্রী বৃদ্ধাকে কাঁধে নিয়ে ৩ কিলোমিটার হেঁটে পাহাড় থেকে নামিয়ে ছিলেন মমতা। সেই মহিলাকে যাতে হেলিকপ্টারে তাডৃ়াতাড়ি তুলে তাঁকে সুশ্রুষা করা যায় তার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখেননি মমতা। মহিলা হয়ে পুরুষের কাজ করছেন বলে, তাঁর সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সমালোচিতও হন মমতা। তবে তাতেও তাঁকে দমানো যায়নি।

মমতার এই বীরত্বে আজও গর্ব করে দেশ। তবে যোগ্য সম্মান সেভাবে জোটেনি মমতার কপালে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তাঁর ও তাঁর পরিবারকে ফের একবার জীবনমুখী করতে আজও লড়াই করতে হচ্ছে মমতাকে। বর্তমানে মাউন্টেন গাইড হিসাবে কাজ করছেন মমতা। নিত্যদিন পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে মানুষকে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন তিনি। মাসে খুব জোর রোজগার হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর তাতেই সংসার চালাতে হয় মমতাকে। তবুও এই 'হেরে না যাওয়া' মনোভাবই মমতাকে লড়াই চালিয়ে য়েতে সাহায্য করেছে নিয়ত। আর আশপাশের বহু পাহাড়ি মেয়ের সাহসের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে মমতার কাহিনী। তবে শুধু সাহস নয়, মমতার স্বার্থ ত্যাগের ক্ষমতাও অপরিসীম। নয়তো বন্যায় নিজের বাড়ি ভেসে যাওয়া সত্ত্বেও অন্য আর্তদের রক্ষায় যেভাবে তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে।












Click it and Unblock the Notifications