নরেন্দ্র মোদীর শপথে মুকুল রায়, অমিত মিত্র! জল্পনা তুঙ্গে

লোকসভা ভোট চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদীকে বাছা বাছা বিশেষণ ব্যবহার করে বিঁধেছিলেন। কখনও বলেছিলেন 'গুজরাতের কসাই, দাঙ্গাবাজ', কখনও 'কে তুমি হরিদাস পাল', কখনও আবার 'কোমড়ে দড়ি বেঁধে জেলে ঢুকিয়ে দিতাম' ইত্যাদি। প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবে না তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থনও করবে না। সংখ্যালঘু ভোটের কথা মাথায় রেখে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে অনুমান।
ভোটের ফল ঘোষণার পর যখন বোঝা গিয়েছিল, কেন্দ্রে সরকার গঠনের চাবিকাঠি তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকছে না, তখন দলের বর্ষীয়ান নেতা সৌগত রায় পরামর্শ দেন, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সমঝোতায় আসার। তাতে তাঁর ওপর বেজায় চটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ এখন তিনিই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে দিল্লি পাঠিয়েছেন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকার জন্য।
এটা নিছক সৌজন্য নয় বলেই অনুমান। কারণ এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল নানা ইস্যুতে বেকায়দায়। যেমন সারদা কেলেঙ্কারি। এখন মামলার তদন্তভার চলে এসেছে সিবিআইয়ের হাতে। তা হলে কি অভিযুক্তদের সিবিআই থেকে আড়াল করতে গোপনে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা হচ্ছে? এ ছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন আর্থিকভাবে কার্যত দেউলিয়া। কেন্দ্রের টাকা না এলে থমকে যাবে উন্নয়নমূলক যাবতীয় কাজ। রাজ্যে উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ দায়ী করবে রাজ্য সরকারকেই। তাই অর্থের জোগান অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতা করে চলাটা জরুরি।
অন্যদিকে, রাজ্যসভায় বিজেপি-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে যে কোনও বিল পাশ করাতে গেলে বিজেপি তথা এনডিএ সরকারকে চাপে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা ভেবেই কিন্তু কিছুদিন আগেও পর্যন্তও বারবার পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলেছিল বিজেপি। কিন্তু সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই বেশি আগ্রহ দেখাতে চাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications