তৃণমূলের সঙ্গে কি আইপ্যাকের সম্পর্ক ছিন্ন হতে চলেছে? মমতা-প্রশান্ত কিশোরের টেক্সট মেসেজ নিয়ে জল্পনা
ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) সংস্থা আইপ্যাকের(IPAC) সঙ্গে কি তৃণমূলের (Trinamool Congress) সম্পর্ক শেষের পথে? সাম্প্রতিক সময়ে ১০৭ টি পুরসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা নিয়ে যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছ
ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) সংস্থা আইপ্যাকের(IPAC) সঙ্গে কি তৃণমূলের (Trinamool Congress) সম্পর্ক শেষের পথে? সাম্প্রতিক সময়ে ১০৭ টি পুরসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা নিয়ে যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, সেখানে থেকে তা আরও খারাপের দিকে গিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। এমন কি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন বলে জানি গিয়েছে।

২০১৯-অর লোকসভা নির্বাচনের পরে রাজ্যে প্রশান্ত কিশোর
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ১৬ টি আসন হারায় বিজেপির কাছে। তারপরেই ডাক পড়ে প্রশান্ত কিশোরের। সেই মুহূর্তে প্রশান্ত কিশোরের ঝুলিতে সাফল্য বলতে ছিল ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচন, ২০১৫-র বিহার বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০১৯-এর অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন। তবে ২০১৭-তে উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যে সফল না হওয়ার রেকর্ডও ছিল প্রশান্ত কিশোরের ঝুলিতে। তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছায় পিকে কে আনা হয়েছিল বাংলায় তৃণমূলের ভোট কুশলী হিসেবে।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্য
২০১৯-এর শেষের দিক থেকেই প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক নেমে পড়ে রাজ্যে। সেই সময় বিভিন্ন বিরোধী দলের স্বচ্ছ্ব ভাবমূর্তির জন প্রতিনিধিদেরও তৃণমূলে যোগ দেওয়ার অফার নিয়ে আইপ্যাকের সদস্যরা ফোন করেছিলেন বলে অভিযোগ। ভোটের আগে দুয়ারের সরকার-এর প্রভাব পড়ে ভোটের বাক্সে। অনেকেই বলে থাকেন সেটা ছিল নাকি প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত। সেই সময় তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে কৌশল-সবই তৈরি করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। পাশাপাশি তিনি দাবিও করেছিলেন বিজেপি তিন সংখ্যায় পৌঁছতে পারবে না। ভোটের ফলে হয়েছিলও তাই। তৃণমূল নির্বাচনে বিপুল সাফল্য পায়। পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফল বেরনোর পর প্রশান্ত কিশোর অবশ্য জানিয়েছিলেন, তাঁর সংস্থা আইপ্যাক কাজ করলেও, তিনি সরাসরি ভোট কুশলীর দায়িত্ব আর পালন করবেন না।

২০২১-এর নির্বাচনের আগে নানা অভিযোগও ছিল
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূলের পুরনো নেতারা। আইপ্যাকের কাজের পদ্ধতি মেনে নিতে পারেননি তাঁরা। অনেকেই সেই সময় দলবদল করেছিলেন, আইপ্যাকের বিরুদ্ধে গালমন্দ করে। যদিও সেই সময় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে সেই সময় সেই সব অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা সামনে আসেনি। পাশাপাশি সরকার গঠনের পরে বিভিন্ন দফতরে আইপ্যাকের সক্রিয়তার অভিযোগ কোনও কোনও মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। সেই সময় বিষয়টি এতটা গুরুতর হয়ে ওঠেনি।

পুরভোটে সক্রিয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি
কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই নিয়ে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আসে। তখনকার মতো সামাল দিয়ে গেয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিধাননগর-সহ ১০৭ টি পুরসভার প্রার্থী বাছাই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয় তৃণমূলের অন্দরে। তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ায় একরকমের প্রার্থী তালিকা এবং নেতাদের হাতে এক প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায়। জেলার নেতারা অভিযোগ করেন প্রার্থী তালিকা নিয়ে তাঁদের সুপারিশ মানেনি আইপ্যাক। ববি হাকিম বলেন, কেউ আইডি-পাসোয়ার্ড নিয়ে এই কাজ করেছেন। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের ফোনে কথা বলার কথা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই সময় অবশ্য আইপ্যাকের তরফ থেকে জানানো হয়, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তির কোনও অংশে তারা জড়িত নয়।

মমতা-পিকের টেক্সট মেসেজ
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দিন তিনেক আগে প্রশান্ত কিশোর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে জানান, বাংলা, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করতে চান না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এব্যাপারে থ্যাঙ্ক ইউ বলে জবাব দেন বলে জানা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই এই উত্তর দিয়ে থাকেন, তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে তৃণমূল আইপ্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছে। তবে সম্পর্ক ছিন্ন করার আগে সবার নজর তৃণমূল ও আইপ্যাকের চুক্তিতে কী আছে?












Click it and Unblock the Notifications