বিজেপির উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তনের পিছনে কি কারণ মমতা, উঠে আসছে যে তথ্য
উত্তরাখণ্ডে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু তিরথ সিং রাওয়াতকে (tirath singh rawat) সরানোর পিছনের কারণ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee), বিজেপির (bjp) পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেননা শুক্রব
উত্তরাখণ্ডে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু তিরথ সিং রাওয়াতকে (tirath singh rawat) সরানোর পিছনের কারণ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee), বিজেপির (bjp) পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেননা শুক্রবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরে রাওয়াত দাবি করেছিলেন, রাজ্যকে সাংবিধানিক (constitutional crisis) সংকট থেকে দূর করতেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই পরিষ্কার অবস্থান
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই পরিষ্কার করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন কমিশন উত্তরাখণ্ডে এই মুহূর্তে নির্বাচন করানোর মতো পরিস্থিতিতে নেই। তবে এই মন্তব্য কি নির্বাচন কমিশন কিংবা সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেই করা হয়েছে, নাকি মুখ বাঁচানোর তাগিদে, সেই প্রশ্ন উঠছে।

বিরোধী কংগ্রেসের কথায়
বিরোধীরা অবশ্য বিশ্বাস করছেন. পুরো বিষয়টিই করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও, তিনি নন্দীগ্রামে ভোটের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন। যিনি প্রায় সময়ই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের সরকার থেকে দূরে রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তাঁরা।
উত্তরাখণ্ডের বিরোধী কংগ্রেসের উপনেতা করণ মাহারা বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত না করতেই তিরথ সিংকে বলির ছাগল করা হয়েছে। তিনি বলেছেন টার্গেট রাওয়াত নন, টার্গেট হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেননা সবাই জানি প্রধানমন্ত্রী কোনও চ্যালেঞ্জ নেওয়া পছন্দ করেন না। সবাই দেখেছেন এলকে আডবানী এবং মুরলিমনোহর যোশীর ক্ষেত্রে কী হয়েছিল।
রাজ্য কংগ্রেসের সহসভাপতি সূর্যকান্ত ধাসমানা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে উত্তরাখণ্ডে উপ নির্বাচন না হওয়ায় বিজেপি এবার নির্বাচন কমিশনের ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে চাইল বাংলাতেও উপনির্বাচন বন্ধ রাখা হোক।

তিরথ সিং রাওয়াতের সুযোগ ছিল একাধিক আসনে লড়াই করার
তিরথ সিং রাওয়াত লোকসভার সদস্য ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসানো হয়। তিনি এখনও লোকসভার সদস্যপদে ইস্তফা দেননি। মে মাসে উত্তরাখণ্ডের সল্ট আসনে উপনির্বাচন হলেও তিনি লড়াই করতে পারেনি, করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে। বর্তমানে সেখানে হলদোয়ানি এবং গঙ্গোত্রী আসনদুটি ফাঁকা রয়েছে। তিরথ সিং গারোয়ালি, তাই তিনি হলদোয়ানি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, কেননা সেটি কুমায়ুন অঞ্চলে পড়ে। আর কুমায়ুন আর গারোয়ালিদের মধ্যে বৈরিতার সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে গঙ্গোত্রী আসনটি গারোয়ালের মধ্যে পড়ে। যা কিনা হিন্দুদের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র।

করোনায় উত্তরাখণ্ডে পরিস্থিতি খুবই খারাপ
করোনায় উত্তরাখণ্ডে সরকারিভাবে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হলেও, সংখ্যাটা ৫০ হাজার ছুঁয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার। দেশের মধ্যে উত্তরাখণ্ড এমন একটি রাজ্য যেখানে মৃত্যুর হার দেশের মধ্যে দ্বিতীয়। গ্রামীণ এলাকাগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা অপ্রতুল। অন্যদিকে কুম্ভমেলাও সমগ্র উত্তর ভারত জুড়ে সুপার স্প্রেডারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়াও ওই মুখ্যমন্ত্রী আমলেওই কুম্ভমেলায় প্রায় একলক্ষ ভুয়ো করোনা রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল।

নির্বাচন নির্ভর করছে কমিশনের ওপরে
প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। তবে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করাতে কমিশন বাধ্য নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদি করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়, তাহলে তারা তা নাও করতে পারে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তারা সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত কোনও নির্বাচন করতে আগ্রহী নয়, অক্টোবরে তারা তা করতে পারে। তবে এব্যাপারে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications