মোদীর ‘দরবার’ মাত মমতার পরিকল্পনায়, কুচকাআওয়াজে থিমের প্রদর্শনীতে বড় চমক
সাধারণতন্ত্রের কুচকাওয়াজে বাংলার থিমে ভাস্বর হয়ে উঠলেন গান্ধীজি ও রবীন্দ্রনাথ। বাংলার ট্যাবলোর থিম শান্তিনিকেতনে ও বেলেঘাটায় গান্ধীজি। আর এই ট্যাবলোর প্রচার পরিকল্পনায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা
সাধারণতন্ত্রের কুচকাওয়াজে বাংলার থিমে ভাস্বর হয়ে উঠলেন গান্ধীজি ও রবীন্দ্রনাথ। বাংলার ট্যাবলোর থিম শান্তিনিকেতনে ও বেলেঘাটায় গান্ধীজি। আর এই ট্যাবলোর প্রচার পরিকল্পনায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী ধরনের ট্যাবলো হবে, তার মডেল কী হবে- সব কিছু নিজে হাতে ঠিক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

১৯৯৯ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজে আর অংশগ্রহণ করবে না। রাজ্যে ক্ষমতা বদল হতে ১২ বছর পর ২০১২ সালে ফের ট্যাবলো পাঠায় রাজ্য। সেবারের থিম ছিল শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসব। সেই থেকেই প্রতি বছর একটা একটা থিম ২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করে আসছে।
এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা মতো শান্তিনিকেতন ও বেলেঘাটায় গান্ধীজি থিম করা হয়েছিল। ১৯১৫ সালের মার্চ মাসে শান্তিনিকেতনে গান্ধীজি সাক্ষাৎ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। সেই সাক্ষাৎ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে এবারের ট্যাবলোতে। ফাইবার মডেলের রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজি তৈরি হয়েছে। ৪৮ ফুট দীর্ঘ, ১৪ ফুট চওড়া ট্রেলারের উপর সাজানো ট্যাবলোতে মডেলের পিছনে রবি ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের বাড়ি। তারপরের অংশে রয়েছে জাতীয় পতাকা।
আর ট্রেলারের পিছনের দিকে রয়েছে বেলেঘাটার তৎকালীন হায়দারি মঞ্জিল। যা বর্তমানে গান্ধীভবন এখানে দাঙ্গার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের ১৩ আগস্ট ৭৩ ঘণ্টা অনশন করেছিলেন গান্ধীজি। দাঙ্গাকারীরা তার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন। দাঙ্গা বন্ধের প্রতিশ্রুতি মলেরা পর ফলের রস খেয়ে অনশন ভেঙেছিলেন গান্ধীজি।
ট্রেলারের পিছনের দিকে থাকবে বেলেঘাটার তৎকালীন হায়দরি মঞ্জিল, যা বর্তমানে গান্ধীভবন। যেখানে দাঙ্গার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের ১৩ আগস্ট থেকে ৭৩ ঘণ্টার অনশন করেছিলেন গান্ধীজি। কয়েকজন দাঙ্গাকারী তাঁর কাছে অস্ত্র সমপর্ণ করে। দাঙ্গাকারীরা দাঙ্গা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলে ফলের রস খেয়ে অনশন ভঙ্গ করেছিলেন গান্ধীজি। এই পুরো বিষয়টি জীবন্ত মডেলের সাহায্যে তুলে ধরা হয় ট্যাবলোতে। ১০ জন শিল্পী তা প্রদর্শন করে।
২০১২ সাল থেকে শুরু করে ২০১৯ পর্যন্ত যে থিমের ট্যাবলোর প্রদর্শনী করে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই প্রদর্শনীতে যে থিম তুলে আনা হয়, তা হল যথাক্রমে- শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসব, স্বামী বিবেকানন্দের দেড়শো বছর, ছৌ নৃত্য, বাংলার বাউল, শারদোৎসবে ঢাকের বাদ্যি, একতাই সম্প্রীতি এবং শান্তিনিকেতন ও বেলেঘাটায় গান্ধীজি। ২০১৫ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্পকে থিম হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তা অনুমোদন করেনি। ফলে প্রদর্শন করা যায়নি সেবার।












Click it and Unblock the Notifications