ত্রিফলা আক্রমণে ব্যাকফুটে মোদী, সংসদীয় ‘যুদ্ধ’-এ নবান্নে বসেই প্যাঁচ কষছেন মমতা
মোদীর গেরুয়া শিবির ছেড়েছেন কেউ, কেউ একে একে সরে যাওয়ার ব্যাপারে পা বাড়িয়ে রেখেছেন। এই অবস্থায় সংসদে ভোটাভুটির মুখে পড়তে পারেন লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মোদীর সরকার।
মোদীর গেরুয়া শিবির ছেড়েছেন কেউ, কেউ একে একে সরে যাওয়ার ব্যাপারে পা বাড়িয়ে রেখেছেন। এই অবস্থায় সংসদে ভোটাভুটির মুখে পড়তে পারেন লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মোদীর সরকার। তার উপর সোমবার নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রশেখর রায়ের বৈঠক। বিরোধী জোটের পালে নতুন করে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। প্যাঁচ কষতে শুরু করেছেন সোনিয়া-রাহুল। নবান্ন থেকে মমতাও সমান তালে সঙ্গত করে চলেছেন।

ওয়াইএসআর কংগ্রেসের আনা অনাস্থা প্রস্থাব নিয়ে যখন সোমবার সংসদে তুলকালাম হবে, তখনই নবান্নে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রায়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগের দিনই বিজেপি জোট অঙ্ক কষতে সময় নিয়ে খারিজ করে দিয়েছে অনাস্থা প্রস্তাব। কিন্তু সোমবার ফের তা নিয়ে উত্তাল হতে পারে লোকসভা। সেখানে জোট-অঙ্কে কিন্তু বেকায়দায় পড়ে রয়েছে বিজেপি।
চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি এনডিও ছেড়েছে, শিবসেনা এখনও এনডিএ-তে থাকলেও, তারা যাই যাই করছে, আকালি দলের অবস্থাও তাই। এরপর তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির প্রধান মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও আসসেন মমতার সঙ্গে বৈঠক করতে। এই বৈঠকে ২০১৯-এ বিজেপি বিরোধী জোটকে আরও গতি এনে দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে সংসদের পাশাপাশি সোমবার নবান্নের দিকেও নজর থাকবে সারা দেশের।
বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত আঞ্চলিক শক্তিকে এক হওয়ার ডাক দিয়েছেন মমতা। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এবার তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির প্রধান উপস্থিত হয়েছেন মমতার দরবারে। মমতা যখন লালকেল্লা দখলের ডাক দিয়েছেন, তখন তৃতীয় ফ্রন্ট নিয়ে সওয়াল করেন কে চন্দ্রশেখর রাও। ফলে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বর্তমান জাতীয় রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে।
তৃতীয় ফ্রন্ট হোক বা মহাজোট- বিজেপি বিরোধী হাওয়া যে তাতে তৈরি হয়েছে বা হবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর-পূর্বের ছোট রাজ্যে বিজেপি জিতলেও, প্রধান প্রধান রাজ্যের উপনির্বাচনগুলিতে যেভাবে ধাক্কা খাচ্ছে বিজেপি, তা পদ্মশিবিরের পক্ষে যথেষ্ট উদ্বেগের। এই উদ্বেগ নিয়েই আপাতত সংসদের যুদ্ধে সামিল হতে হবে।
সেখানে একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-চন্দ্রশেখর রাও রয়েছেন, অন্যদিকে চন্দ্রবাবু নাইডু-জগমোহন রেড্ডি। আর অন্যপ্রান্তে বিজেপিকে হারানোর লড়াই শুরু করে দিয়েছেন অখিলেশ-মায়াবতীরাও। সব মিলিয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বে মহাজোট হলে বিজেপি এবার বিপাকে পড়তে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তৃতীয় ফ্রন্ট হলেও বিজেপির ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা প্রবল।












Click it and Unblock the Notifications