মোদী থেকে সোনিয়া-সাক্ষাতে স্পষ্ট তাঁর ‘দ্বৈত-ভূমিকা’! দিল্লি সফরে কী পেলেন মমতা

মোদী থেকে সোনিয়া-সাক্ষাতে স্পষ্ট তাঁর ‘দ্বৈত-ভূমিকা’! দিল্লি সফরে কী পেলেন মমতা

একুশের মহাযুদ্ধ জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মমতা। শাবানা আজমি থেকে জাভেদ আকতার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যান। হাইপ্রোফাইল এই সফর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী কী পেলেন, রাজনৈতিক মহলে তা নিয়েই চর্চা চলছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি সফরে দ্বৈত ভূমিকায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি সফরে দ্বৈত ভূমিকায়

বিগত তিন দশকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সবথেকে বড় জয়টি পেয়েছেন ২০২১-এ। তৃণমূলের বৃহত্তম রাজনৈতিক জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিল্লি সফরেই গিয়েছিলেন আরও বড় লক্ষ নিয়ে। সপ্তাহভর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজধানীতে দুই প্রকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে। তিনি দিল্লি সফর করেছেনে এক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। আর মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী মুখ হিসেবে।

মোদী সকাশে ফেডারেল পরিকাঠামো মানার দাবি

মোদী সকাশে ফেডারেল পরিকাঠামো মানার দাবি

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে। দিল্লি সফরে গিয়েই তিনি সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে। একজন বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে এবং এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি সাহসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে রাজ্যের জন্য দাবি জানান। তাঁর দাবি, ফেডারেল কাঠামো অনুসরণ করে কেন্দ্র-রাজ্য চলুক।

রাজ্যের নাম বদলে বাংলার করার দাবি মমতার

রাজ্যের নাম বদলে বাংলার করার দাবি মমতার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের নাম বদল নিয়েও আলোচনা হয়। মমতা বলেন, অনেকদিন ধরেই রাজ্যের নাম বদল নিয়ে কথা হচ্ছে। এই বিষয়টি সংসদে আটকে পড়ে রয়েছে। এবার এই বিষয়টি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার প্রথম দেখা কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে

মমতার প্রথম দেখা কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে

তৃণমূল সুপ্রিমো দিল্লি পৌঁছেই তিনজন প্রবীণ কংগ্রেস নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। কমলনাথকে দিয়ে তাঁর বৈঠক শুরু হয়। কমলনাথ-আনন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠকের পর আইনজীবী-সাংসদ অভিষেক মনু সিংভির সঙ্গেও আলোচনা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কংগ্রেস সভানেত্রীর সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে 'চায়ে পে চর্চা'র আগে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল এই বৈঠক।

মমতার সাক্ষাৎ আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গেও

মমতার সাক্ষাৎ আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গেও

দিল্লি সফরে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেই ক্ষান্ত থাকেননি, তিনি বিরোধী ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝির সঙ্গেও বৈঠক করেন। অন্যান্য আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সংসদে। কথা হয় লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গেও। এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে এক মঞ্চে আনাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

মোদী ছাড়াও কেন্দ্রীয়মন্ত্রী গড়করি সকাশে মমতা

মোদী ছাড়াও কেন্দ্রীয়মন্ত্রী গড়করি সকাশে মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর রাজ্যের দাবি তাঁর কাছে অগ্রাধিকার। সুতরাং, রাজনৈতিক লড়াই সত্ত্বেও তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাংর দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং কলকাতার ফ্লাইওভার ও একটি বৈদ্যুতিক বাস উৎপাদন কারখানা তৈরির প্রস্তাব দেন।

বিজেপি বিরোধী প্রভাবকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ মমতার

বিজেপি বিরোধী প্রভাবকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ মমতার

বিজেপি বিরোধী হিসাবে পরিচিত জাভেদ আখতার এবং শাবানা আজমির সঙ্গেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেন। জাভেদ আখতার স্পষ্টতই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, যে ২০২৪ সালে পরিবর্তন প্রয়োজন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চাইছেন বিজেপি বিরোধী শিবিরকে এক জায়গায় আনতে। তাঁরা মমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বুদ্ধিজীবীদের সংস্পর্শে এসে হাওয়া তুলতে চাইছেন মমতা

বুদ্ধিজীবীদের সংস্পর্শে এসে হাওয়া তুলতে চাইছেন মমতা

২০১১-র আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় বাম-বিরোধী বুদ্ধিজীবীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এবং তা ২০১১-এর পরিবর্তনে দারুণ প্রভাব ফেলেছিল। প্রভাবশালী এবং বুদ্ধিজীবীরা জনমত গড়ে তুলেছিলেন, যা ২০১১ সালে মমতার পক্ষে গিয়েছিল। দিল্লির রাজনীতিতেও বিজেপি বিরোধী বুদ্ধিজীবীদের সংস্পর্শে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাওয়া তুলতে চাইছেন।

যে কেউ বিরোধী ঐক্যের প্রধানমন্ত্রী মুখ হতে পারে

যে কেউ বিরোধী ঐক্যের প্রধানমন্ত্রী মুখ হতে পারে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী-মুখ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কেউ নেতৃত্ব দিতেই পারে। আমি আমার মতামত চাপিয়ে দেব না। ২০২৪ সালের জন্য যে কেউ বিরোধী দলের প্রধানমন্ত্রী মুখ হতে পারে। এখন বিরোধী শিবিরে আস্থা গড়ে তোলা জরুরি। একসঙ্গে ২০২৪-এর লড়াই লড়তে হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+