এবার ত্রিপুরা দখল করাই লক্ষ্য, মঙ্গলবার ত্রিপুরায় জনসভা তৃণমূলনেত্রী মমতার
আগরতলা, ৮ অগাস্ট : ২০১৮ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে মানিক সরকারের বাম ব্রিগেডকে শুধু লড়াই দেওয়াই নয়, একেবারে সরাসরি উৎখাতের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই লক্ষ্যেই ত্রিপুরায় একটু একটু করে ঘর গোছাতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
সেই লক্ষ্যেই দলের ভিতকে আরও মজবুত করতে ত্রিপুরা সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মঙ্গলবার আগরতলার আস্তাবল মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। এই জনসভা থেকেই ত্রিপুরার বর্তমান বাম সরকারকে উৎখাতের ডাক দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

গত ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেই ত্রিপুরার বাম সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিল তৃণমূল। সেই হালে পানি পেয়েছে ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায় বর্মন সহ ৬ জন কংগ্রেস বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেওয়ায়। ফলে খাতায়-কলমে ত্রিপুরা বিধানসভার বিরোধী দল এখন তৃণমূল।
২০১৩ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরার ৬০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৪৯টিতে জয়লাভ করেছে মানিক সরকারের সিপিএম। একটি আসন পায় সিপিআই। বাকী ১০টি আসনে জিতেছিল সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। তবে সম্প্রতি সুদীপ সহ মোট ৬ জন কংগ্রেস বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেসের আসন কমে ৪টিতে এবং তৃণমূলের আসন বেড়ে ৬টি হয়ে গিয়েছে।
এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ত্রিপুরার মাটিতে জোড়া ফুল ফোটাতে মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের তরফে নেত্রীর নির্দেশ মেনে সুকুল রায় নিজে ত্রিপুরার দায়িত্বে রয়েছেন। মমতা জনসভা করলে কংগ্রেসের আরও কিছুটা ভাঙন ধরানো যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার ২০১৮-র নির্বাচনে কেমন ফল করে তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সাল থেকে ত্রিপুরায় ভোট হচ্ছে। প্রথম ১৫ বছর আর মাঝের ৫ বছর- এই ২০ বছর বাদ দিলে বরাবরই ত্রিপুরা বামেদের শক্ত ঘাঁটি। এমনকী এরাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়ার মধ্যে দাঁড়িয়েও জয় অব্যাহত রেখেছেন মানিক সরকার। সেই গড়ে তৃণমূল কংগ্রেস হুল ফোঁটাতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications