চেন্নাইয়ে স্ট্যালিনের আত্মজীবনী প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিরোধী সমাবেশ!মমতাসহ ৪ মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা
চেন্নাইয়ে স্ট্যালিনের আত্মজীবনী প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিরোধী সমাবেশ! মমতা ও কেসিআর-এর অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা
চেন্নাইয়ে (Chennai) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের (mk stalin) আত্মজীবনী প্রকাশ অনুষ্ঠান। উঙ্গালিল ওরুভান (তোমাদের মধ্যে একজন) প্রকাশের অনুষ্ঠানে বিরোধী শিবিরের নক্ষত্র সমাবেশ। সেই সমাবেশ থেকেই রাজ্য হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তবে অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
|
রাহুলের নিশানায় মোদী সরকার
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, জম্মু ও কাশ্মীরের গুরুত্ব হ্রাস করে সেটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে দেওয়া হয়েছে। আ্রর সেটিকে শাসন করছেন উত্তর প্রদেশ এবং গুজরাতের আমলারা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যগুলির সম্মতি ছাড়াই বিএসএফ-এর ক্ষমতা বাড়িয়েছে মোদী সরকার। পঞ্জাবের মতো রাজ্যে শতশত একর জমি কেন্দ্রীয় বাহিনী কেড়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবও উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাজেন্ডা চাপিয়ে জনগণের কণ্ঠরোধ
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলির ইতিহাস এবং বৈচিত্র সম্পর্কে অজ্ঞ। জনগণের কণ্ঠ রোধের অভিযোগ করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, মানুষের কথা শোনার পরিবর্তে, বৈচিত্রকে সম্মান করার পরিবর্তে বিভিন্ন রাজ্যে তাদের অ্যাজেন্ডা চাপিয়ে দিয়েছে। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সংবাদ মাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাহুল গান্ধী বলেছেন, কী ভাবে এই লড়াই করতে হয় তা জানা আছে। তারা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে লড়াই করছে, সেই কারণে তাদের (বিজেপি এবং মোদী) সঙ্গে লড়াইয়ের ডাক দেন তিনি। রাহুল দাবি করেন, তারা পরাজিত করতে পারবে না।

তামিলনাড়ুর প্রশংসায় ওমর আবদুল্লা
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও। তিনি বলেন, যে সময় কেন্দ্র ক্ষমতা কেড়ে নিতে গিয়েছিল, সেই সময় তাঁর রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় তামিলনাড়ুর অবদান ভুলবে না জম্মু ও কাশ্মীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের মানুষের সম্মতি ছাড়াই রাজ্যকে ভাগ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটি সম মনোভাবাপন্ন দলকে ভারতের ধারণা সম্পর্কে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। তিনি বলেন. স্বাধীনতার পর থেকে অন্য কোনও রাজ্যকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। তবে যে কোনও সময় জম্মু ও কাশ্মীরের মতো পরিস্থিতি কেরল কিংবা তামিলনাড়ুর মতোই হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

স্ট্যালিনের প্রশংসায় বিজয়ন-তেজস্বী
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন স্ট্যালিনের কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুব নেতা হিসেবে কাজ শুরু করে বছরের পর বছর ধরে ডিএমকের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এরপর চেন্নাইয়ের মেয়র, রাজ্যের মন্ত্রী এবং উপ মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন তিনি। রাজ্যের অধিকারের দাবি নিয়ে তাঁকে (স্ট্যালিন) বারবারই সরব হতে দেখা গিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবও। তিনি বলেন, বিচার বিভাগে সংরক্ষণের দাবিতে প্রচার জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, যে সময় নেতারা ইমেজ বিল্ডিং এবং কৌশল তৈরিতে ব্যস্ত, সেই সময় একজন মুখ্যমন্ত্রী তরুণদের জন্য বই লিখেছেন।

অনুপস্থিত ছিলেন যাঁরা
তবে অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের অনুপস্থিতি কারও নজর এড়ায়নি। বরং তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি নিশ্চিত দেখেই অনুষ্ঠান এড়িয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার কোনও কোনও সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেঙ্গানার কে চন্দ্রশেখর রাও এবং অন্ধ্রপ্রদেশের জগনমোহন রেড্ডিকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। আবার কোনও কোনও মাধ্যমে বলা হচ্ছে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষের তিনজন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একমঞ্চে থাকতে চাননি। তবে ঠিক কী হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা এব্যাপারে এখনও কোনও পক্ষই অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ডিএমকের তরফে অতিথিদের চেন্নাই নিয়ে যেতে চাটার্ড বিমানের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের স্ট্যালিন বলেন, তাঁর বিয়ের সময় যেমন আয়োজন করা হয়েছিল, এই অনুষ্ঠানেও ঠিক তেমনই আয়োজন করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications