মমতা ও কেজরিওয়াল-সহ ৯ নেতার জোট, মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেফতারির বিরোধিতা একযোগে
কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে দেশের আট বিরোধী দলের ৯ নেতা। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন তারা।
আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই আবগারি নীতি নির্ধারণে অনৈতিক কাজ হয়ছে বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগেই গ্রেফতার হয়েছেন মণীশ সিসোদিয়া। এবার তাঁর গ্রেফতারির বিরুদ্ধে একযোগে হল প্রতিবাদ।

সবাই এককাট্টা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ ৯ জন বিরোধী নেতা অন্যায় গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হয়েছে। ইডি ও সিবিআই তৎপরতা বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে। শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে। শুধু তো মণীশ সিসোদিয়া নন, সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন বাংলার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে হেভিওয়েট তৃণমূল অনুব্রত মণ্ডল প্রমুখ। গ্রেফতার হয়েছেন সেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাই সবাই এককাট্টা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে।

ভাই কেজরির পাশে দিদি মমতা
আম আদমি পার্টির নেতা মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেফতার নিয়ে রাজনৈতিক যুদ্ধে শামিল হয়েছে আটটি বিরোধী দল। মমতা বন্যোতিপাধ্যায় পাশে দাঁড়িয়েছেন দিল্লির আপ সরকারের। কেজরিওয়ালের সঙ্গে একযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

চার মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষর চিঠিতে
কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্রীখা কে চন্দ্রশেখর রাও, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল রয়েছেন এই তালিকায়। চার মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও রযেছেন আরও পাঁচ বিরোধী দলের পাঁচ নেতা।

আর যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন
অন্য যারা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাঁরা হলেন- ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির প্রধান শরদ পাওয়ার, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব। বিরোধী দলের নেতারা এই চিঠিতে স্বাক্ষর করলেও, কংগ্রেস দূরে থেকেছে।

কী লেখা হয়েছে চিঠিতে
মোদীকে লেখা আট বিরোধী দলের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "আমরা আশা করি আপনি একমত হবেন যে, ভারত এখনও একটি গণতান্ত্রিক দেশ৷ বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নির্লজ্জ অপব্যবহার থেকে বোঝা যায়, আমরা গণতন্ত্র থেকে স্বৈরাচারে রূপান্তরিত হয়েছি। যেভাবে বিরোধী দলগুলির উপর ইডি-সিবিআইয়ের আক্রমণ নেমে আসছে, তা নিন্দনীয়।

মণীশকে প্রমাণ ছাড়াই গ্রেফতার, চিঠিতে উল্লেখ
অভিযোগ, আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়াকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই গ্রেফতার করেছিল। বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠিতে বলেছেন সেই কথা। মোদীকে লেখা চিঠিতে এমন কথাও বলা হয়েছে যে, ২০১৪ সাল থেকে আপনার প্রশাসনের অধীনে তদন্ত সংস্থাগুলি বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। মজার বিষয় হল বিজেপিতে যোগদানকারী বিরোধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থাগুলি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

যে সব বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান
২০১৪ সালে মোদী সরকার আসার পর যে সব বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে বা গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই তালিকা বেশ দীর্ঘ। আরজেডির লালুপ্রসাদ যাদব, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, সমাজবাদী পার্টির আজম খান, নবাব মালিক, এনসিপির অনিল দেশমুখ, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ রয়েছেন এই তালিকায়। দিল্লির আবগানি নীতি প্রণয়নে দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications