বিরোধী ঐক্যে শান দিতে দিতেই এসে যাবে ২০২৪! বিজেপিরই সুবিধা মমতা-মুখে
বিরোধী ঐক্যে শান দিতে দিতেই এসে যাবে ২০২৪! বিজেপিরই সুবিধা মমতা-মুখে
বিজেপির বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ হওযার বার্তা দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সমস্ত বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দিয়েছেন। দিয়েছেন এক ছাতার তলায় আসার বার্তা। এখনও পর্যন্ত বিরোধীরা এক জায়গায় আসতে পারেনি। তাঁদের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়ে গিয়েছে। বহু প্রশ্নেই তারা দ্বিধাবিভক্ত। তার মধ্যে প্রধান হল কংগ্রেসের অবস্থান।

কংগ্রেস মেনে নেবে না মমতাকে, স্থির বিশ্বাস বিজেপির
বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা নেতৃত্বে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মানে বিজেপিরই সুবিধা। বিজেপি চাইছেও সেটা। তাহলে বহু ক্ষেত্রে ত্রিমুখী লড়াই হবে। কংগ্রেসের পক্ষে মমতার নেতৃত্ব মেনে নেওয়া কঠিন। কেননা আর সব বিরোধী দল আঞ্চলিক। কিন্তু কংগ্রেস তো আঞ্চলিক নয়। তারা কি মমতার নেতৃত্ব মেনে নেবে। বিজেপির স্থির বিশ্বাস কংগ্রেস মেনে নেবে না মমতাকে।

মমতার বিরোধী ঐক্যের মুখ হলেই মোক্ষলাভ বিজেপির!
আর দেশে এমন কিছু বিরোধী শক্তি রয়েছে, যাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে যাবে না। তাঁরা বিজেপির সঙ্গেও যাবে না। তাঁরাই মমতাকে স্বপ্ন দেখাবেন তাঁকে মুখ করে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মোদী বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে ওঠার অভীপ্সায় বিজেপি বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস করবেন কংগ্রেসকে ছাড়াই। সেটাই বিজেপিও চায়। তাহলেই বিজেপির মোক্ষলাভ হবে।

ত্রিমুখী লড়াই হলে বিজেপিকে ঠেকানো এখন দুঃসাধ্য
আবার এমন কিছু আঞ্চলিক দলও রয়েছে, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যাবেন না। তাঁরা কংগ্রেসের নেতৃত্বেই লড়তে চাইবে। ফলে দেশে বর্তমানে এমন একটা সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যাতে করে ত্রিমুখী লড়াই সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। আর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ত্রিমুখী লড়াই হলে বিজেপিকে ঠেকানো এখন দুঃসাধ্য। বিজেপি তা করে দেখিয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে।

বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিত আওয়াজ কি মমতার নিজের স্বার্থে!
আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিরোধীদের সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তিনি কী চাইছেন? তিনি কি বিজেপির বিরুদ্ধে সত্যিকারের লড়াই চালাতে চাইছেন সবাইকে এক করে, নাকি স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছেন। এক তাঁর এবং তাঁর দলের বিরুদ্ধে এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তিনি বিরোধীদের এক করে বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিত আওয়াজ তুলতে চাইছেন।

গোয়ায় বিজেপি জিতেছে তৃণমূলের কারসাজিতে, স্পষ্ট পরিসংখ্যানে
কংগ্রেস ও সিপিএম-সহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন মমতার উদ্দেশ্য নিয়ে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রতিক অতীতে গোয়া ও ত্রিপুরায় বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। গোয়ায় তাঁদের রাজনৈতিক এন্ট্রি বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছে। ভোট পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে তৃণমূল থাবা না বসালে গোয়ায় বিজেপি জিততে পারত না। গোয়ায় বিজেপি জিতেছে তৃণমূলের কারসাজিতে।

মমতাই বিজেপির হাত শক্ত করছে রাজ্যে রাজ্যে, অভিযোগ
কংগ্রেস এই অভিযোগ ভোটের আগেই করেছিল। সেটাই হয়েছে। আবার ত্রিপুরা, মেঘালয়ের মতো অনেক রাজ্যে কংগ্রেসকে নিরন্তর ভেঙে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার ফলে বহু রাজ্যেই শক্তিক্ষয় হচ্ছে। যা বিজেপির পক্ষে সুবিধা হয়ে যাচ্ছে। ফলে তৃণমূলের ভূমিকা অনেকের কাছেই দ্বিচারিতা বলে মনে হচ্ছে। একদিকে বলছেন বিজেপির বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই চাই। আবার তাঁরা বিজেপির হাত শক্ত করছে রাজ্যে রাজ্যে।

মমতার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েও কংগ্রেস-প্রশ্নে পিছপা
পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের কংগ্রেসের ভরাডুবির পর ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী মুখ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছেন। তিনি চাইছেন যে সব রাজ্যে আঞ্চলিক দলের সরকার চলছে, তাদের এক করে মোদী বিরোধী লড়াইয়ে প্রধান মুখ হয়ে উঠতে। এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আঞ্চলিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের সবার কাছে থেকে তিনি সম্পূর্ণ ইতিবাচক সাড়া পাননি। অনেকে তাঁর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েও কংগ্রেস-প্রশ্নে পিছপা হয়েছেন।

মমতার নেতৃত্বেই বিজেপি বিরোধী জোট চান কে সি রাও
সম্র্ তি তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে সি রাও উদ্যোগী হয়েছেন বিজেপি-বিরোধী জোট গড়ে তোলার ব্যাপারে। তিনিও পৃথকভাবে বেশ কয়েকজন বিজেপি-বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রী ও আঞ্চলিক দলের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। এতদিন মমতা ও কেসি রাওয়ের উদ্যোগ পৃথক বলে মনে হচ্ছিল। কেসি রাও জানিয়েছেন, মমতার নেতৃত্বেই তিনি বিজেপি বিরোধী জোট চান।

গোকুলে বেড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা আপের
আবার ওদিকে পাঞ্জাবে কংগ্রেসকে হারিয়ে আম আদমি পার্টির উত্থান হওয়ায় তাঁরাও বিরোধী মুখ হয়ে উঠতে চাইছে। তবে তাঁরা কোনও আঞ্চলিক দলের কাছে আবেদন রাখছেন না জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য। তাঁরা গোকুলে বেড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। দিল্লিতে বিজেপিকে হারিয়ে সরকার, পাঞ্জাবে কংগ্রেসকে হারিয়ে সরকার গঠনের পর আরও বেশ কিছু রাজ্যকে তাঁরা টার্গেট করেছে।

বিজেপির বিকল্প হিসেবে কংগ্রেসই অটোমেটিক চয়েস
আর কংগ্রেস মনে করছে, তাঁরাই পারেন বিজেপিকে আটকাতে। এখনও অর্ধেক আসনে বিজেপিকে বিরুদ্ধে তাঁরাই প্রধান শক্তি। মানুষ কংগ্রেসের উপরই আস্থা রাখবে। বিজেপি শাসনের অবসান ঘটিয়ে কংগ্রেসকে ফের ক্ষমতায় আনবে দেশের মানুষই। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে যতই তৃতীয় বিকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা হোক, মানুষ তা মেনে নেবে না। বিজেপির বিকল্প হিসেবে কংগ্রেসই অটোমেটিক চয়েস।












Click it and Unblock the Notifications