বঙ্গ ভোটে বড় বদল! তিন পর্বেই হতে পারে নির্বাচন, ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রস্তুত
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটযুদ্ধ এবার সম্পূর্ণ নতুন ছন্দে চলতে পারে। দীর্ঘ টানাপোড়েন, আট দফার বিরল অভিজ্ঞতা ও কোভিড আতঙ্ক পেরিয়ে এবার নির্বাচন কমিশন চাইছে সংক্ষিপ্ত, সুশৃঙ্খল ও অধিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট সম্পন্ন করতে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মাত্র দুই বা তিন পর্বেই শেষ হতে পারে গোটা নির্বাচন।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, ভোটের দিন কমাতে হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন মোতায়েন প্রয়োজন। সে কারণেই অন্তত ২,০০০ কোম্পানি অর্থাৎ প্রায় দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার সিএপিএফ জওয়ান এই মুহূর্তে সম্ভাব্য মোতায়েনের তালিকায়। ২০২১ সালে যে বাহিনী ছিল তার দ্বিগুণেরও বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ মহলে ইতিমধ্যেই হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে রাজ্যগুলির সিইও দের সঙ্গে পর্যালোচনা পর্বে পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, প্রশাসন চাইলে তিন পর্বের মধ্যেই ভোট শেষ করা সম্ভব, তবে তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর বড়সড় শক্তি লাগবে, রাজ্য পুলিশের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।
রাজনৈতিক অন্দরের খবর বলছে, দিল্লিতেও এই প্রসঙ্গ নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানিয়েছেন, ২০২১ সালের দীর্ঘ টানা আট পর্যায়ের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সুবিধা হয়েছিল বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ। তাই এবার ভোট যত সংক্ষিপ্ত করা যায়, ততই সুবিধা এমন হিসেবও নাকি উঠে এসেছে অন্দরমহলে।
২০১১ সালে ছয় দফা, ২০১৬ সালে সাত দফা, ২০২১ সালে আট দফা ক্রমশই বাড়ছিল ভোটের পর্যায় সংখ্যা। যদি সত্যিই ২০২৬ এর ভোটে দুই বা তিন দফায় ভোটগণতন্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, তবে সেটা হবে একেবারে ইতিহাস বদলের মতো পরিবর্তন।
তবে শেষ সিদ্ধান্ত এখনও কমিশনের হাতে। বিশাল বাহিনী, কড়া লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সমন্বয় সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বড় পরীক্ষার সামনে। কিন্তু ইতিমধ্যেই পরিষ্কার, আগামী বিধানসভা ভোট হবে ছোট, আঁটসাঁট ও অতীতের তুলনায় আরও বেশি সশস্ত্র নিরাপত্তায় মুড়ে।












Click it and Unblock the Notifications